ইরান কেন বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি- বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদার করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পাঁচটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি বা এয়ারস্ট্রিপ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় অবস্থিত এসব ঘাঁটি সংস্কারের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত, তার নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে চাপে রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ এই সরু করিডরটি হওয়ায়, এর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না ভারত সরকার। ফলে সীমান্তবর্তী বিমান পরিকাঠামো সক্রিয় করে দ্রুত সেনা মোতায়েন ও রসদ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনাও একটি বড় কারণ। লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় বিষয়টি ভারতীয় সামরিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই বিমানঘাঁটি কেবল দেশের নিজস্ব জাতীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে, তবুও ভারত সীমান্ত এলাকার যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ভারতীয় সূত্রগুলো দাবি করছে।
এরই অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘লাচিত বরফুকন’ নামের তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো এয়ারস্ট্রিপগুলো সচল করার কাজও এই বৃহত্তর সামরিক প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব বিমানঘাঁটি সংস্কার করা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ি। এর আগে কোচবিহার ও আসামের রূপসী বিমানবন্দর সফলভাবে পুনরায় চালু করেছে ভারত।
বর্তমানে এয়ারপোর্টস অথোরিটি অব ইন্ডিয়া পশ্চিমবঙ্গের এসব বিমানক্ষেত্রের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত চায় এসব রানওয়ে যেন সবসময় জরুরি অপারেশনাল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকে। বিশেষ করে সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সেনা পরিবহন, হেলিকপ্টার অবতরণ কিংবা সামরিক রসদ সরবরাহে এই ঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
তবে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় এসব এয়ারস্ট্রিপ পুনরায় কার্যকর করার পথে বেশ কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে। বহু বছর অব্যবহৃত থাকায় অনেক জায়গায় রানওয়ে ভেঙে গেছে, কোথাও ঘন জঙ্গল গড়ে উঠেছে, আবার কিছু বিমানক্ষেত্রের চারপাশে জনবসতিও তৈরি হয়েছে। এসব কারণে বড় যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য এগুলো এখনই পুরোপুরি উপযোগী নয়।
তবে সীমিত সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার কিংবা ছোট সামরিক বিমান নামানোর মতো সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা চলছে। সীমান্তের ওপারে পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au