চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৮ জানুয়ারি- নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান রনি ওরফে কানা মিজানকে (৩৫)। হত্যাকাণ্ডের পর তাকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক কালিরহাট বাজারে মিষ্টি বিতরণ করলে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার ১৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। সে সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে ধাওয়া দেওয়া হয় এবং তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলার পর মরদেহটি সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করেছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর তাকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও কাউকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিহতের স্বজনরা এ ঘটনায় ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে বলেন, দেশে আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। অপরাধের বিচার আদালতে হওয়ার কথা, এভাবে পিটিয়ে হত্যা মেনে নেওয়া যায় না। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, বৈঠকের সময় মিজান এলে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, পরে সে চলে যায়। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা তিনি জানেন না। বাজারে মিষ্টি বিতরণের বিষয়েও তিনি কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেন।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au