বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই সাত জেলায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জামালপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, রংপুর, শরীয়তপুর…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি- দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের পর এবার সেগুলোর আয়তন আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে চীন। বালি ও পলিমাটি ফেলে সমুদ্রের বুক দখলের এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ‘সমুদ্রচুরি’তে নেমেছে বেইজিং।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে পরে সেখানে সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলাই চীনের মূল কৌশল। দক্ষিণ চীন সাগরে এই পরিকল্পনা সফল হলে ভবিষ্যতে পীতসাগরকেও নিশানায় নিতে পারে ড্রাগন- এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন তাইওয়ান ও জাপান।
পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কাজ শুরু করে চীন। সরকারিভাবে প্রকল্প শেষ হওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ থামেনি। সম্প্রতি উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এই কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে গবেষণা সংস্থা এশিয়া মেরিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ (এএমটিআই)। তাদের দাবি, স্ট্র্যাটলি ও প্যারাসেলস দ্বীপপুঞ্জে একাধিক কৃত্রিম দ্বীপ গড়ে তুলেছে চীনা নৌবাহিনী।
এএমটিআই জানায়, প্রথমে সামুদ্রিক খাঁড়ি দখল করে পরে কৌশলগত সুবিধা অনুযায়ী নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি কৃত্রিম দ্বীপেই মোতায়েন রয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র নৌসেনা। কোথাও কোথাও যুদ্ধবিমানের জন্য রানওয়ে ও বিমানঘাঁটিও তৈরি করা হয়েছে।
প্যারাসেলস দ্বীপপুঞ্জের ট্রি আইল্যান্ড তারই একটি উদাহরণ। প্রায় ২৫ একর এলাকায় গড়ে ওঠা এই দ্বীপে রয়েছে বন্দর, হেলিপ্যাড, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, র্যাডার স্টেশন এবং নানা সামরিক পরিকাঠামো। পাশাপাশি বায়ু টারবাইন ও সিমেন্ট কারখানাও তৈরি করেছে চীন, যা ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্যারাসেলস অঞ্চলে নৌ ও বিমানবাহিনীর মিলিয়ে অন্তত ২০টি চীনা সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ট্রি আইল্যান্ডের কাছেই নর্থ আইল্যান্ড নামের আরেকটি কৃত্রিম দ্বীপের আয়তন বাড়ানোর কাজ চলছে। ২০১৬ সাল থেকে সেখানে লাগাতার বালি ফেলা হচ্ছে। নর্থ আইল্যান্ডকে মিডল আইল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যদিও তা বাস্তবায়নে আরো এক দশক সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
মূল প্যারাসেলস দ্বীপেও সামরিক পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হয়েছে। সেখানে রয়েছে ২,৭০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে চিনের সবচেয়ে উন্নত কৃত্রিম দ্বীপগুলো গড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে এএমটিআই। সেখানে তিন হাজার মিটার দীর্ঘ রানওয়ে, সেনা ব্যারাক, জ্বালানি মজুত কেন্দ্র ও আধুনিক র্যাডার ব্যবস্থা রয়েছে।
ভিয়েতনামের উপকূলের কাছেও ট্রাইটন, প্যাটন, মানি ও লিঙ্কন নামে একাধিক কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করেছে বেজিং। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, সেখানে ফের সামরিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
এই কর্মকাণ্ডের দিকে কড়া নজর রেখেছে আমেরিকাও। ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের দাবি, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে চীন অন্তত ১২ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা কৃত্রিম দ্বীপের মাধ্যমে গ্রাস করেছে।
তবে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর অভিযোগ আরো গুরুতর। ভিয়েতনাম ও ফিলিপিন্সের দাবি, কৃত্রিম দ্বীপের মাধ্যমে অন্য দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড)-এ ঢুকে পড়ছে চীন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অঞ্চল একটি দেশের ইইজেড হিসেবে গণ্য হয়।
২০১৭ সালে ম্যানিলায় আসিয়ান বৈঠকে এই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক হয়। চীন অবশ্য দাবি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করছে এবং এর উদ্দেশ্য পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা।
পরিবেশবিদদের অভিযোগ, বালি ও পলিমাটি ফেলতে গিয়ে দক্ষিণ চিন সাগরের ১২ থেকে ১৮ বর্গকিলোমিটার প্রবালপ্রাচীর ধ্বংস হয়েছে। এতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জলস্রোতের গতিপথও বদলেছে।
চাপের মুখে চীন স্বীকার করেছে, কিছু পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে। যদিও তাদের দাবি, কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেজিংয়ের কৌশল যে ভবিষ্যতে আরো বড় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে একমত বিশেষজ্ঞরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au