আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি: চট্টগ্রামের আদালত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার আদালতের কাছে তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান। তবে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাহিদুল হক সেই আবেদন নাকচ করে দেন।
সোমবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার মোট ৩৯ আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর হলে তার সমর্থকরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোর্ট রোডের রঙ্গম কনভেনশন হলের কাছে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে আইনজীবী আলিফের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫–১৬ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের অধিকাংশই রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল রোড শেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান ২০২৫ সালের ১ জুলাই ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন, যেখানে চিন্ময় দাসকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে ২৫ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯ জনে।
আদালত ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা
রোববার সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। টেরিবাজার, লালদিঘীর পাড়, জেল রোড, কোতোয়ালি মোড়, জহুর হকার্স মার্কেট, হাজারী গলি, কেসি দে রোডসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালত ভবনের প্রধান ফটকে ব্যারিকেডের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। আইনজীবী, আদালতকর্মী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনীর একটি টহল দল এসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।
এর আগে শনিবার রাতে পুলিশ জানায়, অভিযোগ গঠনের শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় “বিশেষ নিরাপত্তা” ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ওটিএন বাংলার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আদালত এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের একসঙ্গে এত কড়া নিরাপত্তা আগে কখনও দেখিনি। মানুষ কিছুটা আতঙ্কের মধ্যেই আছে।”
মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে বলে আশা করছেন নিহত আইনজীবীর পরিবার ও সহকর্মীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন কেবল একটি মামলার বিষয় নয়, বরং তা এখন হয়ে উঠেছে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক চাপের প্রভাব নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।