‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি- সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের খবরে ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই আদেশ দেওয়ার পরপরই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। বিক্ষোভকারীরা ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল, সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সোমবার হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিকেল সোয়া চারটার দিকে বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও রিটকারী মুমিনুর রশীদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
এ সময় নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নেই উল্লেখ করে বিএনপিপন্থী আটজন শিক্ষক শাকসু নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন জানান, আটজন কমিশনার পদত্যাগের পাশাপাশি বিএনপিপন্থী আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষক নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন।
পদত্যাগকারী আট কমিশনারের মধ্যে ছয়জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, রেজোয়ান আহমেদ, মো. মাহবুবুল আলম, মো. আশরাফ সিদ্দিকী, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং জি এম রবিউল ইসলাম।
অন্যদিকে একই দিন বেলা দেড়টার দিকে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক সাস্ট চ্যাপটার পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে। সংগঠনের সদস্যসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রিটের রায় নির্বাচনবিরোধী হলেও প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন যে শাকসু নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিলে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক ভবনেই অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
সকালে সোয়া ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রথম দফার বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শাকসু নির্বাচনসহ তিনটি ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির বিরুদ্ধেও তারা প্রতিবাদ জানান। পরে বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au