অভি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার এলাকার বাসিন্দা রমেশ চন্দ্রের বড় ছেলে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- নওগাঁ শহরের কালিতলা মহাশ্মশান সংলগ্ন নদী থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর উদ্ধার হয়েছে এক কলেজছাত্রের মরদেহ। শনিবার বিকেলে নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবার ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি শনাক্ত করে। নিহত ওই কলেজছাত্রের নাম অভি।
অভি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার এলাকার বাসিন্দা রমেশ চন্দ্রের বড় ছেলে। তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনায় মেধাবী অভি পরিবারের বড় ভরসা ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনার্স শেষ করে ভালো একটি চাকরিতে যোগ দিয়ে বাবার সংসারের হাল ধরাই ছিল অভির স্বপ্ন। তার ফাইনাল পরীক্ষা সামনে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই সেই স্বপ্নে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে আসে। অবশেষে নদী থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবরে ভেঙে পড়েন বাবা রমেশ চন্দ্র। ছেলের নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে আহাজারি করতে থাকেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানের মরদেহ নিজের কাঁধে বহনের যন্ত্রণা যে কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ থেকে ঠিক সাত দিন আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন অভি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। এর মধ্যেই শনিবার কালিতলা মহাশ্মশান সংলগ্ন নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অভির বলে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।
অভির এমন অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।