ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন ২৪ জানুয়ারি- আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন করায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, ২০১৬-১৭ সালের রাখাইনে সংঘটিত জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান হিসেবে বৈধতা দিতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে নেপিডো।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান জানায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আপত্তিও তোলে বাংলাদেশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রিত করে মিয়ানমার তাদের অবৈধ অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ এটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার সুপরিকল্পিত কৌশল বলে উল্লেখ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী, যারা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকান অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে আরাকানের পুরনো রাজধানী মায়ো-হাউং, ম্রো-হাউং বা রোহাউং এলাকায় তাদের উপস্থিতির কারণে বৃহত্তর বাংলায় তাদের রোশাং বা রোহাং নামে ডাকা হতো। এ কারণে শুরুতে এটি একটি বহির্নামের ব্যবহার হলেও সময়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা পরিচয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক আমলের নৃতাত্ত্বিক বিবরণ এবং স্বতন্ত্র গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ফলে তাদের বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী হিসেবে দাবি করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও কোণঠাসা করা হলেও তারা ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটাধিকার ভোগ করেছে। রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিতভাবে ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা এবং জাতিগত নিধনের পটভূমি তৈরি করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ২০১৭-১৮ সালেও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত আট বছরে রাখাইনে সে ধরনের কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি নেপিডো। এই দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তাকে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্য হিসেবেও দেখা যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা।
এ ছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল বলে মিয়ানমারের দাবিকে তথ্যপ্রমাণহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।
বিজ্ঞপ্তির শেষে বাংলাদেশ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের দেশটির অবিচ্ছেদ্য জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au