মেলবোর্ন, ২৪ জানুয়ারি- উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি স্থলবেষ্টিত রাজ্য নাগাল্যান্ড। আর এই রাজ্যের একটি গ্রামের নাম খোনোমা। নামটা হয়তো অনেকের অজানা, কিন্তু একবার পা দিলে বোঝা যাবে- এটি কোনো সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র নয়। এখানে নেই হট্টগোলপূর্ণ শহরের ভিড়, নেই রাতের জাঁকজমক। আছে শান্তি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মানুষের মধ্যে অদ্ভুত পারস্পরিক বিশ্বাস।
খোনোমা ভারতবর্ষের প্রথম ‘সবুজ গ্রাম’, যেটি ১৯৯৮ সালে খোনোমা নেচার কনজার্ভেশন ও ট্র্যাগোপান স্যানচুয়ারি (কেএনসিটিএস) প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিচিত। পাহাড়, সবুজ উপত্যকা, পরিচ্ছন্ন রাস্তা- সবকিছু মিলিয়ে গ্রামটি যেন প্রকৃতির কোলে ছায়াপথ ধরে হেঁটে চলেছে।
পাহাড়ের কোলে শান্তি আর টেকসই জীবন
খোনোমা গ্রামটিতে আঙ্গামি উপজাতিদের বসবাস। প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০ মানুষ বাস করে, মাত্র ৪২৪টি বাড়িতে। ১৯৯৮ সালে গ্রামে শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় জীবনধারা বদলে যায়। এখন গ্রামবাসীরা বনসম্পদ, কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল।
শুধু জীবনধারা নয়- খোনোমা কমিউনিটি ও বিশ্বাসের সমাজ কায়েম করেছে। এখানে কেউ কারো বাড়ি লক করে না, কেউ কাউকে প্রতারণা করবে না- এই বিশ্বাসেই চলে সবকিছু।
দোকানদার ছাড়াই দোকান
খোনোমার সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো এখানে দোকানদার ছাড়া দোকান চলে। প্রতিটি পণ্যের উপরে দাম লেখা থাকে। আপনি যা কিনতে চান, তা নিন এবং মূল্য পরিশোধ করুন। কেউ কাউকে ঠকাবে না- এটি গ্রামবাসীর মধ্যে গভীরভাবে জাগ্রত পারস্পরিক বিশ্বাসের ফল।
অনেক ভ্রমণ ব্লগার দেখেছেন, খোনোমার দোকানে কখনো দোকানদার থাকে না। এমনকি বাড়িও লক করা থাকে না। কমিউনিটি লাইব্রেরি থেকে বই নিতে পারেন, পড়ার পর ফিরিয়ে দিতে পারেন। দানের জন্য বই থাকলে, সেই একই লাইব্রেরিতে রেখে আসা যায়।
ভ্রমণকারীদের জন্য খোনোমা
যদিও গ্রামটি ছোট, পর্যটকদের জন্য এখানে আছে বহু কিছু দেখার ও করার সুযোগ।
পাহাড়ি দৃশ্য ও সবুজ উপত্যকার ছবি তোলা।
গাইডেড নেচার ওয়াক।
খোনোমা কেল্লা
১৯শ শতকে আঙ্গামি নাগাদের ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াই করার ঐতিহাসিক স্থান। এছাড়া, গ্রামে থাকা শান্ত পরিবেশ, টেকসই জীবনধারা এবং মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস- এই অভিজ্ঞতাই খোনোমাকে বিশেষ করে তোলে। এটি এমন একটি ঠিকানা, যেখানে ভ্রমণ শুধু চোখের সৌন্দর্য নয়, মন ও হৃদয়কেও ছুঁয়ে যায়।
শেষ কথা খোনোমা শুধু একটি গ্রাম নয়, এটি শিক্ষা দেয় কিভাবে টেকসই জীবনধারা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি সমাজ গড়ে তোলা যায়। পর্যটকদের জন্য এটি একটি নতুন ঠিকানা- যেখানে প্রকৃতি, শান্তি এবং মানুষের আন্তরিকতা একসঙ্গে বিরাজ করে।
সূত্র: এনডিটিভি