ইতালিতে সন্ত্রাসবাদ মামলায় দণ্ডিত বাংলাদেশি যুবকের স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- সন্ত্রাসবাদের দায়ে কারাদণ্ড ভোগ শেষে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক ফয়সাল রহমানকে ইতালি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত। দুই বছর আট মাসের সাজা শেষ হলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ফয়সাল রহমান এখনো সমাজের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে তাকে ইতালিতে অবস্থান করতে দেওয়া জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল রহমান ইতালির জেনোয়া শহরের ফিনকান্তিয়েরি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, তিনি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন তেহরিক ই তালিবানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং অনলাইনে উগ্রবাদী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তিনি সহিংস হামলার পক্ষে প্রচারণা চালাতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ফয়সাল রহমান নিজেকে ‘ঈশ্বরের সৈনিক’ হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডকে ধর্মীয়ভাবে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করতেন। তিনি একে ৪৭ রাইফেল চালনার একটি ম্যানুয়াল ক্রয় করেছিলেন এবং নিজ উদ্যোগে যুদ্ধ প্রশিক্ষণের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতকে জানান।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ফয়সাল রহমান উগ্রবাদে দীক্ষা নেন গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রেসিয়া শহর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক বাংলাদেশি নাগরিক খলিল উল্লাহর মাধ্যমে। ৩৭ বছর বয়সী খলিল উল্লাহ নিয়মিত ভিডিও বার্তা পাঠানো এবং উগ্রবাদী বই সরবরাহের মাধ্যমে তাকে প্রভাবিত করতেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, এসব কর্মকাণ্ড শুধু আইন লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইতালির জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। সে কারণে ফয়সাল রহমানের সাজা শেষ হলেও তাকে ইতালিতে থাকার কোনো সুযোগ না দিয়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।