চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
জামায়াত সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি মারা যান। রাত ১০টার দিকে জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে ওঠার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের কর্মীরা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু করে। এ সময় সভামঞ্চের সামনে রাখা শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষে রেজাউল করিমসহ দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রেজাউল করিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এতে জামায়াতের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, জামায়াতই পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। সংঘর্ষে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, সব প্রার্থীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বসার বিষয়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au