বাংলাদেশ

সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে ড. ইউনূসের ‘উদ্ভট ব্যাখ্যা’র নিন্দায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ

  • 5:19 pm - January 29, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪২ বার
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞা নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা তাদের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত।

তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, নতুন এই সংজ্ঞা অনুযায়ী কি কেবল মন্দির বা উপাসনালয়ের আঙিনায় সংঘটিত সহিংসতাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হবে, আর সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য পরিসরে ঘটে যাওয়া হামলা, নির্যাতন ও বৈষম্য সাম্প্রদায়িকতার আওতার বাইরে থাকবে?

সংগঠনের নেতারা এ ধরনের সংজ্ঞাকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক বছরে দেশে অন্তত ৫২২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু জানুয়ারি মাসেই ৪২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসীরা শুধু ক্ষুব্ধই নয়, বরং নিজ দেশেই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করে ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, এই ধারাবাহিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও আশার সঞ্চার করার মতো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন থেকে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এবং নির্বাচনকালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন।

এছাড়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়। ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, উসকানিমূলক প্রচার বা গুজব ছড়ানোর ঘটনায় কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থিতা বাতিলেরও আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ ছাড়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

এই শাখার আরও খবর

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

তেহরান ও ইসফাহানে ইসরায়েলের নতুন দফায় ‘ব্যাপক’ বিমান হামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে নতুন দফা ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী…

প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, হামলা স্থগিতের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানোর…

আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…

সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি

মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au