আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২ ফেব্রুয়ারি- অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের গণমাধ্যম খাতে ব্যাপক অস্থিরতা ও পেশাগত নিরাপত্তাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। এই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮৯ জন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮টি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল হয়েছে এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের মালিকানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের একটি বড় অংশজুড়ে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
টিআইবি জানায়, সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি মব সহিংসতার মাধ্যমে গণমাধ্যম কার্যালয়ে চাপ সৃষ্টি, সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি এবং হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে চলছেই।
প্রতিবেদনে ছয়টি গুরুতর বিষয় আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দায়িত্ব পালনকালে ছয়জন সাংবাদিকের নিহত হওয়ার ঘটনা। একই সঙ্গে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে মব তৈরি করে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট ৪৯৭টি হয়রানির ঘটনায় এক হাজার ১০৪ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এর মধ্যে ২০৪ জনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জামিন থেকেও বঞ্চিত থাকতে হয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে টিআইবি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিরুদ্ধ মত প্রকাশকারীদের রাজনৈতিকভাবে ‘ট্যাগ’ দেওয়া, গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেতিবাচক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়লেও এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধমূলক কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি স্পষ্ট।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৫ সালের প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ ১৬ ধাপ এগিয়ে গেলেও বাস্তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। পেশাগত নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা ও নীতিগত সংস্কারের ঘাটতির কারণে এই উন্নতি টেকসই নয় বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে ১৩টি আইনের বিভিন্ন ধারা চিহ্নিত করলেও সেগুলো সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি কমিশনের প্রস্তাবিত সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের খসড়াও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করলেও তার বাস্তব অগ্রগতি নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গণমাধ্যম নিবন্ধন প্রক্রিয়াও এখনো আগের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের ধাঁচেই রয়ে গেছে বলে মত দিয়েছে টিআইবি।
টিআইবি মনে করে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ টেকসই করতে হলে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় গণমাধ্যম খাতে এই অস্থিরতা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au