আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন,৩ ফেব্রুয়ারি- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে গত ১৭ মাসে সারা দেশে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দুই-তৃতীয়াংশই হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। জেলার হিসাবে সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে কুমিল্লা। এমন তথ্য উঠে এসেছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর এক প্রতিবেদনে।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সংস্থাটির সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এ সময়ে সারা দেশে মোট ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৯৭টি ঘটনায় হামলার প্রমাণ মিলেছে। বাকি ৩৭টি ঘটনায় নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি ঘটনাকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৩৬টি ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সিলেটে ৯টি, ময়মনসিংহে ৮টি, রাজশাহীতে ৬টি, খুলনায় ৫টি, রংপুরে ৩টি এবং বরিশালে ২টি হামলার তথ্য রয়েছে। জেলার হিসাবে কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি ১৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। নরসিংদীতে ১০টি এবং ঢাকায় ৯টি হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পেছনের কারণ বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৯টি ঘটনা ঘটেছে ধর্মীয় মতবিরোধ থেকে। স্থানীয় বিরোধের জেরে ২১টি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ১৬টি হামলা হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ধরন নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ ঘটনায় ‘তৌহিদী জনতা’র পরিচিত বেশভূষা ও নেতৃত্ব লক্ষ্য করা গেছে। ভিডিও বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩টি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির” স্লোগান দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাজারে হামলার পাশাপাশি মাজারসংশ্লিষ্ট সাতটি মসজিদেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।
মাকামের হিসাব অনুযায়ী, এসব হামলায় সারা দেশে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮০ জন, ময়মনসিংহে ১৫৩ জন, চট্টগ্রামে ৩১ জন, সিলেটে ৪৪ জন, বরিশালে ৩৭ জন এবং খুলনায় ২৩ জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং একজন ময়মনসিংহের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মাকাম জানায়, অন্তত ১০টি ঘটনায় হামলার আগে মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা দেওয়া হলেও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার শিকার ৪৪টি মাজার বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব মাজারে বার্ষিক ওরস আয়োজন বন্ধ হয়ে গেছে। ছয়টি মাজার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
মাকামের সমন্বয়ক আবু সাঈদ বলেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ ও খানকাগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনঃসংস্কার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলে ১২টি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব দলই চিঠি গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আইনি সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, মাকাম গবেষণা দলের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম ও আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতার, হামলার শিকার বিভিন্ন দরবারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au