আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে নিজ বাসায় অনুমোদনহীনভাবে নামাজের জামাত আয়োজনের অভিযোগে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গ্রিসে ধর্মীয় স্বাধীনতা, অভিবাসী অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় নীতির কঠোরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়ণ মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রণীত একটি কঠোর আইনের বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে ওই বাংলাদেশির বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এটি অবৈধ উপাসনালয় পরিচালনার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ। যদিও কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বিল্ডিং কোড ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত করছে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ধর্মীয় চর্চার ওপর অতিরিক্ত দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভুক্তভোগীর প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে তাকে ‘মোহাম্মদ হাসান’ (ছদ্মনাম) হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ৩৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে এথেন্সে বসবাস ও কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো ধর্মীয় নেতা নন। বরং প্রবাসী সমাজে তিনি একজন সাধারণ ও সম্মানিত সদস্য হিসেবেই পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এথেন্সের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় ভাড়া করা একটি বেসমেন্ট ফ্ল্যাটে পরিচিত কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে তিনি নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। বিশেষ করে জুমার নামাজে সেখানে কয়েকজন প্রবাসী একত্রিত হতেন। ইউরোপের বিভিন্ন শহরের মতো এথেন্সেও পর্যাপ্ত মসজিদের অভাবে ঘরোয়া পরিবেশে নামাজ আদায়ের ঘটনা নতুন নয়।
তবে স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের পর অ্যাজিওস পান্তেলিমনাস থানার পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় স্থানটিকে অনুমোদনহীন উপাসনালয় হিসেবে চিহ্নিত করে সিলগালা করা হয়। পরে অনুমতি ছাড়া নামাজের জামাত পরিচালনার অভিযোগে হাসানকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়ণবিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সদ্য পাস হওয়া ‘ল ৫২২৪/২০২৫’-এর ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগের নির্দেশ দেন। এই আইনে অবৈধ উপাসনালয় পরিচালনার অভিযোগে সরাসরি রেসিডেন্স পারমিট বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। ওই ধারার আওতায় হাসানের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন আদেশ জারি করা হয় এবং তাকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সুযোগও দেওয়া হয়নি, যা সাধারণত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এথেন্সজুড়ে বহু অনুমোদনহীন নামাজঘর রয়েছে, যেগুলোর অনেকই বায়ু চলাচলহীন বেসমেন্টে অবস্থিত এবং অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, দীর্ঘ আলোচনার পর ভোটানিকস এলাকায় চালু হওয়া সরকারি মসজিদই মুসলমানদের নামাজের জন্য অনুমোদিত একমাত্র স্থান।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। হেলেনিক লিগ ফর হিউম্যান রাইটসের এক প্রতিনিধি বলেছেন, এটি অপরাধ দমনের চেয়ে বরং দারিদ্র্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপরাধে পরিণত করার শামিল। তাদের মতে, কেবল নামাজ আদায়ের জায়গা দেওয়ার কারণে কাউকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা ধর্মীয় স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সংগঠনগুলোর আরও দাবি, এথেন্সের বিশাল আয়তনের তুলনায় একটি মাত্র সরকারি মসজিদ সব মুসলমানের জন্য কার্যকর সমাধান হতে পারে না। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী প্রবাসীদের পক্ষে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করা বাস্তবসম্মত নয়।
এই ঘটনায় গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ঘরোয়া পরিবেশে একসঙ্গে নামাজ আদায় করলেও তারা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।
এদিকে হাসানের আইনজীবীরা ডিপোর্টেশন আদেশের বিরুদ্ধে জরুরি আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের যুক্তি, একটি প্রশাসনিক নিয়মভঙ্গের শাস্তি হিসেবে দেশান্তর সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং শাস্তির মাত্রা অনুপাতহীন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় গ্রিসে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন হাসান ও তার পরিবার। তবে ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের অভিযোগে একজন বৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা গ্রিসের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অভিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au