মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি- জনগণকে না জানিয়ে বন্দর ইজারা দেওয়া গণস্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণসার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, নন-ডিসক্লোজার চুক্তির আড়ালে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুক্ত করে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল দায়িত্বশীল পথ।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফরহাদ মজহার। ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বন্দর সুরক্ষা কমিটি। সভায় বন্দরের শ্রমিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, লেখক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্র কি জনগণকে জানিয়ে, তাদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিনা। নন-ডিসক্লোজার ক্লজের আড়ালে কোনো চুক্তি হলে জনগণ জানবেই বা কীভাবে। বিদেশি কোম্পানির হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে আমরা অদক্ষ, বিদেশিরা এসে বন্দর চালাবে এবং মুনাফা করবে। এই যুক্তি ভয়ংকর। বিপদের সময়ে রাষ্ট্র নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কিনা, সেটিও বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল।ছবিঃ সংগৃহীত
গণসার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বন্দর ও গণসার্বভৌমত্ব একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমলারা একতরফাভাবে নিতে পারেন না। গণসার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পার্থক্য না বোঝার ফলেই সংসদের সার্বভৌমত্বের নামে ক্ষমতা লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে চলে যাচ্ছে। নির্বাচনের সময় জনগণ প্রকৃতপক্ষে ঠিক করছে কারা রাষ্ট্রের সম্পদ লুট করবে।
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এই বন্দর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শক্তি। শ্রমিকদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা রয়েছে, কিন্তু বন্দর অচল হয়ে পড়লে সেটিকে বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর হস্তান্তরের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তাই শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে।
সভায় সূচনা বক্তব্য দেন বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আহমেদ ফেরদৌস। পরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. হুমায়ুন কবীরসহ অন্যরা।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বিভিন্ন প্রকল্প ধীরে ধীরে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি বন্দরের স্বার্থ ও দেশীয় কর্মসংস্থানের জন্য বড় হুমকি। এনসিটি বিদেশিদের হাতে গেলে প্রায় ৮০০ কর্মচারী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। তারা বন্দর রক্ষা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দেশীয় দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, কৃত্রিমভাবে বন্দরের আয় কম দেখিয়ে চুক্তির যৌক্তিকতা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে নয়, বরং আরেকটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার বোর্ড ও কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এই চুক্তির পূর্ণ তদন্ত এবং সব তথ্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
সভায় বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের সামনে সব তথ্য তুলে ধরা এবং গণস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। না হলে ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au