‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৭ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার এই আদেশে সই করার পর তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্য করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে পারে।
নির্বাহী আদেশে শুল্কের নির্দিষ্ট হার উল্লেখ করা না হলেও উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি ইরান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি কিংবা অন্য কোনো উপায়ে সংগ্রহ করে এবং সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করা হয়, তাহলে সেই রপ্তানির ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প সরাসরি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। তবে শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আবারও বলেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনা বাড়ছিল। তার মধ্যেই এই নির্বাহী আদেশ নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘সোশ্যাল ট্রুথ’-এ ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। গত ১২ জানুয়ারি দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে এই শুল্ক কার্যকর করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তখনও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি বা আইনি কাঠামো স্পষ্ট করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলো চীন। এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির ভিত্তিতেই সর্বশেষ নির্বাহী আদেশটি জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে আদেশে সংশোধন আনতে পারবেন।
নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উন্নত করছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, তার মিত্র দেশগুলোর স্বার্থ এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার থেকেই ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর এটিই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা।
এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আলোচনার মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, শুক্রবারের আলোচনা খুব ভালো হয়েছে এবং ইরান সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান চুক্তিতে না আসে, তাহলে তার পরিণতি খুবই খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছেন, এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান বোঝার পাশাপাশি সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনাকে একটি সুন্দর শুরু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আলোচনায় একটি ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং অংশগ্রহণকারীরা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর আগেই ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনিকে খুবই চিন্তিত হওয়া উচিত। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হলে ইরানের ওপর সামরিক হামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হতে পারে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তারা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতিও বাড়িয়েছে। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে সেখানে একটি বড় নৌবহর পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ওই দমন অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au