১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার…
মেলবোর্ন ৯ ফেব্রুয়ারি- মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, যৌথ বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতনের ফলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
নিহত যুবকের নাম রাসেল কাজী (২৯)। তিনি কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের উত্তর আন্ডারচর এলাকার বাসিন্দা এবং আলম কাজীর ছেলে। রাসেল ঢাকায় একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করতেন। তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান গ্রামে থাকতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে বরিশালের মুলাদী সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে রাসেলকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যান। এরপর সারাদিন তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রাসেল মারা গেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বেলা তিনটার দিকে উত্তর আন্ডারচর এলাকায় নিহতের বাড়ির সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাঁরা অভিযোগ করেন, সেনা ক্যাম্পে নেওয়ার পর রাসেলকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং সেই নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই হাশেম কাজী অভিযোগ করে বলেন, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রাসেলকে গাছে বেঁধে মারধর করেন এবং পরে মাঠে নিয়ে আরও নির্যাতন করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর মুলাদী সেনা ক্যাম্প প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করে। পরে কালকিনি সেনা ক্যাম্প থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, রাসেলের লাশ সেখানে এসেছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে মুলাদী সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মেজর তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
অন্যদিকে কালকিনি সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আশফানুল হক বলেন, উত্তর আন্ডারচরের অভিযানটি মুলাদী ক্যাম্প পরিচালনা করেছে। তাঁর দাবি, কালকিনি ক্যাম্পের সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, লাশটি কালকিনির মধ্যে হওয়ায় সাময়িকভাবে তাঁদের ক্যাম্পে আনা হয়েছিল এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে তা মুলাদী ক্যাম্প ও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, লাশ সুরতহাল করে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে সুরতহাল প্রতিবেদন বা লাশ কীভাবে মর্গে পৌঁছেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au