বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটের হার, ছবিঃ বিবিসি
মেলবোর্ন, ১১ ফেব্রুয়ারি- কার্যক্রম নেতৃত্বে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগকে ঘিরে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ডাক দিলেও তৃণমূলের সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বিধা, শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।
সম্প্রতি কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর পর ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর বাসভবনে সমবেদনা জানাতে যান বিএনপির মহাসচিব ও সদর আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে টার্গেট করেই এই কৌশলগত তৎপরতা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ৭৩ শতাংশ ভোট পেলেও ১৯৭৯ সালে তা নেমে আসে ২৪ শতাংশে। পরবর্তী সময়ে দলটির ভোটের হার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৮ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছায়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির প্রকৃত জনসমর্থন কতটা—তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোট এখন ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তবে দলটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এই সমর্থনের প্রকৃত পরিমাণ যাচাইয়ের সুযোগ নেই।
দলীয়ভাবে ‘নৌকা নেই, ভোটও নেই’ স্লোগানে ভোট বর্জনের প্রচারণা চালানো হলেও তৃণমূল পর্যায়ে চিত্র একরকম নয়। অনেক সাধারণ সমর্থক বলছেন, ভোট দিতে না গেলে ভবিষ্যতে ‘চিহ্নিত’ বা ‘আক্রান্ত’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমর্থক বলেন,
“আমরা যদি ভোট দিতে না যাই, তাহলে আমাদের চিহ্নিত করা হতে পারে। ভয় থেকেই অনেককে ভোটকেন্দ্রে যেতে হতে পারে।”
অন্যদিকে, কিছু তৃণমূল নেতা মনে করছেন, ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই এখন কৌশল। তাদের যুক্তি, ভোটের হার কম হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটাররা তিনভাবে প্রভাব ফেলতে পারেন—
১. তারা ভোটকেন্দ্রে গেলে অংশগ্রহণের হার বাড়বে।
২. নির্দিষ্ট কোনো দলের দিকে ঝুঁকলেই ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
৩. আর তারা না গেলেও যদি ভোটের হার বেশি হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য অংশ ভোটে অংশ না নেয়, তাহলে বৈধতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে আসবে। আবার যদি উচ্চ উপস্থিতি দেখা যায়, তাহলে তা অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার পক্ষে জনসমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচন তাই কেবল বিএনপি-জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোটার উপস্থিতি, ভোটের হার এবং আওয়ামী সমর্থকদের আচরণ—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।
সুত্রঃ বিবিসি