আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে ইভার্স ইজাবস মিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল। এটি একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিয়েছে। যদিও নির্বাচনের সময় কিছু বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা গেছে, এগুলো প্রায়শই ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে। তারা স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখেছে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা নিশ্চিত করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য যথাযথ ছিল। তবে, আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা হ্রাসকারী ফাঁকফোকর বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমর্থন পেয়ে কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে। তারা সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক মিশন নারীদের অংশগ্রহণের সীমিততা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানির বিষয়কও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিফিংয়ে ইভার্স ইজাবস বলেন, নারীরা জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ মাত্র ৪ শতাংশে সীমিত ছিল। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারীদের প্রতি বৈষম্য এবং বিশেষ করে নারী প্রচারকদের হয়রানি করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্য করা গেছে এবং পুরনো প্রথা এখন পরিত্যাগ করার সময় এসেছে।
ইইউ পর্যবেক্ষকরা ৫৬টি প্রচারণা সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যেখানে শারীরিক আঘাত এবং প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। মিশনটি জানিয়েছে, কারসাজি করা অনলাইন বর্ণনা বা প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি করেছে। এছাড়া ভুল তথ্য বা অপপ্রচার রোধে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো খুব ধীরগতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও হতাশাজনক ছিল বলে মিশনটি উল্লেখ করেছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য এবং শান্ত আচরণকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ইভার্স ইজাবস বলেন, নতুন সরকারের মানবাধিকার রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমর্থকদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
মিশনটি আরও মনে করিয়েছে, গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং সুশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আরও কাজ করা প্রয়োজন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিটি স্তরে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার অপরিহার্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au