লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে ইরান
মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করেছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা…
মেলবোর্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ তহবিল আত্মসাতের ঘটনায় ৯ জন আসামি দোষ স্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে পৃথক সময়ে তাঁরা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিরা পর্যায়ক্রমে আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাঁদের সম্মিলিতভাবে ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং লাকি ল্যাং। তাঁরা জানান, মহামারির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ করা গুরুতর অপরাধ।
আসামিদের নাম ও বয়স প্রকাশ করা হলেও তাঁদের ছবি প্রকাশ করা হয়নি। তাঁরা হলেন মাহবুব মালিক (৪১), তোফায়েল আহমেদ (৫০), ইউসুফ এমডি (৪৫), মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮), জাকির চৌধুরী (৫৯), মোহাম্মদ খান (৪৯), তানভীর মিলন (৫৫), জুনেদ খান (৫৬) এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাদিম শেখ (৫৬)।
সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২০ সালের জুন থেকে আসামিরা নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় একাধিক ভুয়া বা অকার্যকর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে অনুদানের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাপ্ত অর্থ কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল এবং ব্যবসায়িক সরঞ্জাম কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।
তদন্তকারীরা জানান, অনুদানের অর্থ পাওয়ার পর তা দ্রুত ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। ব্যাংক হিসাব, কর নথি এবং ব্যবসায়িক রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠানের অনুদান পাওয়ার আগে কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ ছিল না। ফলে বিষয়টি সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং তা আনুষ্ঠানিক তদন্তে রূপ নেয়।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, মহামারির সময় বহু ক্ষুদ্র ব্যবসা টিকে থাকার লড়াই করছিল। সেই সময়ে তহবিল আত্মসাৎ করা শুধু আইনভঙ্গ নয়, জনআস্থার সঙ্গে প্রতারণা। দোষ স্বীকারের মাধ্যমে আসামিরা এখন ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, দুর্যোগকালীন তহবিল ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করলে তা আইনি পরিণতি বয়ে আনে। এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে তাঁদের দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।
স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তর ২০২৪ সালের মে মাসে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনিয়মের প্রমাণ মেলার পর মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর ২০২৫ সালের ৬ থেকে ৯ মে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিরা আত্মসমর্পণ করেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাকির চৌধুরীকে কুইন্স কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্ট দেড় লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেন। তিনি ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেছেন এবং ২৩ মার্চের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
জাকির চৌধুরী বলেন, তিনি চাইলে বিচার প্রক্রিয়ায় যেতে পারতেন, তবে দীর্ঘসূত্রতা ও সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কায় আদালতের নির্দেশ মেনে অর্থ পরিশোধ করছেন। তাঁর দাবি, তাঁর সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার খোকন আশরাফ তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অনুদানের আবেদন করেন এবং অর্থ পাওয়ার পর অর্ধেক নিয়ে যান। এখন জরিমানার দায় তাঁকেই বহন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনিই প্রথম ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করেন এবং বিষয়টি এখন মীমাংসিত।
মামলাটি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মহামারিকালীন তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে আরও কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au