উপদেষ্টাদের গ্রেফতারের দাবিতে ঢাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকাদাহ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে তার পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি ‘কুশপুত্তলিকাদাহ’ হিসেবে পরিচিত। প্রতিবাদে উপস্থিত ছিলেন ২০০১-০২ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ডাকসু নির্বাচনের সবচেয়ে বেশি বয়সী ভিপি পদপ্রার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।
প্রতিবাদে আবু তৈয়ব হাবিলদার ড. ইউনূসকে ‘দ্বিতীয় মীরজাফরখ্যাত দেশদ্রোহী, আমেরিকার দালাল, জুলাই বিপ্লব ধ্বংসকারী, সুদী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত এবং বর্তমান উপদেষ্টাদের গ্রেফতার করা প্রয়োজন।
অগ্নিসংযোগের আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সমালোচনা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সমালোচনা হয়েছে, শেখ হাসিনারও বহু সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজের করে নেওয়ার অভিযোগ আমরা কখনও শুনিনি। এখানেই ড. ইউনূসের পার্থক্য।”
তিনি আরও বলেন, “যে মানুষ জনগণের ভালোবাসা পেয়ে ক্ষমতায় বসেন, কিন্তু পরে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। আমেরিকার সঙ্গে বৈধ-অবৈধ, অসম চুক্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করেন। তার সম্মান নিয়ে যাওয়ার অধিকার নেই। আমরা আশা করেছিলাম, তিনি দেশের জন্য ভালো কিছু করবেন; বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবেন; বিদেশি বিনিয়োগ আনবেন; তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন; অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবেন।”
প্রতিবাদে তিনি ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের নানা বিতর্কের দিকেও ইঙ্গিত দেন। বলেন, “দায়িত্বে আসার পর গ্রামীণফোনের ৬০০ কোটি টাকার বকেয়া কর মওকুফ করেছেন যা ছিল জনগণের ট্যাক্সের টাকা। গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আদম ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়ার মতো নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।”