মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় নয় মাসের ধারাবাহিক আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ স্বাক্ষরিত হয়। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির শর্ত, শুল্ক কাঠামো ও বাজার সুবিধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সরকারপ্রধানের কার্যালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সহজীকরণ, উৎসের বিধান, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আগে থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় থাকায় নতুন করে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ হয়নি। বরং বিদ্যমান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
চুক্তিতে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে সেগুলো দিয়ে তৈরি পোশাক পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ২,৫০০ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও কাঠজাত পণ্য রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ হাজার ১৩২ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯২২টি পণ্যে চুক্তি কার্যকরের দিন থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। ১ হাজার ৫৩৮টি পণ্যে পাঁচ বছরের মধ্যে এবং ৬৭২টি পণ্যে ১০ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক শূন্যে নামানো হবে। ৩২৬টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
সরকার বলছে, অন্যান্য দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তিতে সাধারণত ধাপে ধাপে শুল্ক কমানোর সুযোগ থাকে না; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সে সুবিধা রাখা হয়েছে।
চুক্তিতে কাগজবিহীন বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা বাস্তবায়ন, ই-কমার্সে স্থায়ী শুল্কমুক্তির সমর্থন, অশুল্ক বাধা হ্রাস, মান নির্ধারণ ও পরিবেশ ও শ্রম মানদণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া ডিজিটাল বাণিজ্য, প্রযুক্তি সহযোগিতা, মার্কিন বিনিয়োগে কিছু খাতে ইকুইটি সীমা উদারীকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ, এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম, তুলা ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়ানোর বিষয়ও চুক্তিতে রয়েছে।
চুক্তিতে একটি ‘এক্সিট ক্লজ’ রাখা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট শর্তে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ দেবে বলে জানিয়েছে সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর আশা প্রকাশ করেছে, এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামানো হয়, যা ১ আগস্ট কার্যকর হয়। আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। টানা আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক ১৯ শতাংশে নামাতে সক্ষম হয় সরকার।