আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত ৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটি বলছে, নির্বাচন-পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে অন্তত ২৬ জেলায় হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমএসএফ এসব তথ্য তুলে ধরে সহিংসতার ঘটনায় ‘তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও দায়িত্বশীল ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি না ঘটে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, মুন্সিগঞ্জে জসিম উদ্দিন এবং বাগেরহাটে ওসমান সরদার নামে দুই ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হওয়ায় সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে; তার বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ায় তাকে সুপারি চুরির অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনাও সহিংসতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এমএসএফ। ভোলায় আব্দুর রহিম নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরে মো. সোহাগ মিজি নামে এক রিকশাচালক নির্বাচনের রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর পরিত্যক্ত বালুর মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদরে ভোট প্রদান শেষে বাড়ি ফেরার সময় পুলিশের গুলিতে দিনমজুর আব্দুল মোতালেব কাজী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এমএসএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাড়ে তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে হামলাই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এমএসএফ আরও বলেছে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব ভুয়া বা যাচাইবিহীন কনটেন্ট পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সংগঠনটি বলেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়কে সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাখার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজ, সবার। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au