মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি- নাটোরের গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে এক ইউপি সদস্যের মায়ের ওপর এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হালিমা বেগম (৫৬) গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং ডান কানের নিচে গলার কিছু অংশ ঝলসে গেছে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর ইউনিয়নে এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবেশী নজরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়। ওই মামলায় সাক্ষ্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য চামেলী বেগম। পরে আদালতে নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়। কয়েক মাস জেল খেটে জামিনে বের হওয়ার পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ।
চামেলী বেগম জানান, মামলা তুলে নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় হুমকিও দেওয়া হয়। শনিবার গভীর রাতে তাঁর মা হালিমা বেগম ও মেয়ে শাবানা বাড়ির বাইরে গেলে ওত পেতে থাকা নজরুল ইসলাম শাবানাকে লক্ষ্য করে এসিড ছোড়ে বলে অভিযোগ। বিষয়টি বুঝতে পেরে হালিমা বেগম মেয়েকে সরিয়ে দিলে এসিড তাঁর শরীরে পড়ে। চিৎকার শুনে স্বজনরা বের হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। আর গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবারটির দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।