যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম এ ধরনের বৈঠক ছিল । ছবি বিবিসি
মেলবোর্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারি- মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সিরিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বড় অংশ ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
কর্মকর্তার ভাষ্য, সিরিয়ার ভেতরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব এখন দেশটির সরকারই দেবে। ফলে সেখানে বৃহৎ পরিসরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। তবে প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ এবং অঞ্চলটিতে যেকোনো হুমকির জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত থাকবে।
২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ায় অবস্থান করছে মার্কিন সেনারা। ইসলামিক স্টেট বা Islamic State-এর প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই তাদের মোতায়েন করা হয়।
এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln ইরানের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে বলে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ USS Gerald R. Ford-কেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে, যা শিগগিরই সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প বলেছেন সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকবে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এ বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আল তানফ গ্যারিসন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল শাদ্দাদি ঘাঁটি ত্যাগ করে। ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে আইএসআইএস দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দামেস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে। গত নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হয়।
এদিকে জানুয়ারিতে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন Syrian Democratic Forces-কে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার একটি চুক্তি হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ডিসেম্বরে এক আইএসআইএস হামলায় একজন দোভাষী ও আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ নামে পাল্টা অভিযান চালায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সুত্রঃ বিবিসি