চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- আসন্ন দোল পূর্ণিমা উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন লালন ভক্ত ও সাধুসমাজের প্রতিনিধিরা। শনিবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে তারা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৩ মার্চ পবিত্র দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধুসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ফকির লালন শাহ তাঁর জীবদ্দশায় এই উৎসব পালন করতেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোত্র নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের ভক্তরা এতে অংশ নেন।
লালন অনুসারীদের ভাষ্য, মানবতাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পূর্ণিমা উদ্যাপন করেন। তাই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাধা, হয়রানি বা নিরাপত্তা শঙ্কা যেন না থাকে, সে বিষয়ে সরকারের সদয় দৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।
খোলা চিঠিতে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
আধ্যাত্মিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা: লালন সাধু ও বাউল সম্প্রদায় যেন তাদের প্রচলিত সাধুরীতি অনুযায়ী অবাধে আধ্যাত্মিক সাধনা ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন এবং ভক্তরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লালন দর্শনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন—এ জন্য প্রশাসনিকভাবে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধুদের মতামত ও অনুমতির বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার: পহেলা কার্তিকের লালন তিরোধান দিবস, দোল পূর্ণিমা এবং অন্যান্য সাধুতিথিতে আখড়াভিত্তিক উৎসবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। লালন আখড়াবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ মাজারগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।
আখড়াবাড়ির সুরক্ষা: ছেউড়িয়ার লালন আখড়াসহ নিবন্ধিত আখড়াগুলোর আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দখল বা হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে কিছু প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি তোলা হয়েছে।
হয়রানি ও কটূক্তি প্রতিরোধ: বাউল ও সাধুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অপপ্রচার বা সামাজিক উস্কানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের জীবনাচার ও পোশাক নিয়ে কটূক্তি বন্ধে পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
স্বাধীন চলাচল নিশ্চিতকরণ: দেশের বিভিন্ন জেলায় সাধুদের যাতায়াত ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সমন্বয় কমিটি গঠন: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও লালন-সম্পর্কিত সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যোগাযোগ ও তদারকি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আখড়াবাড়ির অনুষ্ঠান সাধুরীতি অনুযায়ী পরিচালনার স্বার্থে বয়োজ্যেষ্ঠ ও খেলাফতি সাধুদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাধু কল্যাণ তহবিল: প্রবীণ ও অসচ্ছল সাধুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও ন্যূনতম কল্যাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি তহবিল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। ছেউড়িয়ায় লালন একাডেমির সাধু ও শিল্পী সমাজের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার লক্ষ্যে নিবন্ধিত শিল্পী সমাজ বা ট্রাস্ট গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
সমাধিসৌধ পুনর্নির্মাণ: উৎসবের সময় আখড়াবাড়ির লালন সমাধিসৌধে স্থানসংকট দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে লালন অনুসারী সাধুদের মতামত নিয়ে সমাধি ভবন পুনর্নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
লালন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের স্বাক্ষরে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার লালন একাডেমি, লালন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা, লালন সেবাসনদ, এসো গড়ি আশার আলো, আয়না মহল, লালন সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র, ভাবাশ্রম ও বিশ্ব লালন সংঘ; মেহেরপুরের দৌলত শাহ ফাউন্ডেশন; ঢাকার জাতীয় সাধু সংসদ, ষোলো আনা বাঙালি; ভাব, আধ্যাত্ম ও বোধি চর্চা কেন্দ্র এবং চুয়াডাঙ্গার পারঘাট আয়না মহল।
লালন ভক্তদের আশা, সরকারের সক্রিয় উদ্যোগে এবারও দোল পূর্ণিমা উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবং সাধুসমাজ তাদের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au