আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারকে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় করতে হবে। দেশীয় ও বৈদেশিক দুই ধরনের ঋণের কিস্তি ও সুদ মিলিয়ে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ২৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে চলতি অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে। আগামী অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
গত মাসে প্রকাশিত আইএমএফের আর্টিকেল ফোর পরামর্শমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে বাংলাদেশের জন্য ঋণ নবায়ন ঝুঁকি বাড়বে। অর্থাৎ পুরোনো ঋণের কিস্তি শোধ করতে নতুন করে ঋণ নেওয়া ক্রমেই কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৮৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি জিডিপির ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ৩৯ শতাংশ। মোট ঋণের মধ্যে ১০১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার দেশীয় ঋণ এবং ৮৭ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় ঋণ পরিশোধ জিডিপির ৪ দশমিক ২ শতাংশের সমান ছিল, আর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে সরকারের আয়ের তুলনায় দেশীয় ঋণের চাপ অনেক বেশি। ওই অর্থবছরে দেশীয় ঋণ ছিল জিডিপির ২২ দশমিক ৬ শতাংশ, আর এই ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা সমমানের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। ভবিষ্যতে এ অনুপাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
গত অর্থবছরে জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসা নিট দেশীয় ঋণ গ্রহণ ভবিষ্যতে গড়ে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। গত এক দশকে এর গড় ছিল প্রায় ১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের বিপরীতে রাজস্ব আয়ের অনুপাত বেড়ে যাওয়ায় মাঝারি মেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সুদের হার বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ঋণসংক্রান্ত সূচকগুলো আগের বিশ্লেষণের তুলনায় এখন বেশি ঊর্ধ্বমুখী।
আইএমএফ সতর্ক করেছে, কর সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছর নাগাদ কিছুটা চাপ কমতে পারে। তবে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ঋণ পরিশোধের চাপ জিডিপির ১১০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যেতে পারে। তাই জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আয়ের হার বাড়ানো জরুরি।
বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশেরও নিচে, যা ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে এ অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
আইএমএফ আরও বলেছে, বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত দেশীয় ঋণ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কমে যেতে পারে। এতে বিনিয়োগে চাপ তৈরি হবে এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত বোঝা পড়বে। পাশাপাশি সরকার যদি দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে, তাহলে স্বল্পমেয়াদি সুদের হারের ওপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। এতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা ঋণের স্থিতিশীলতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আইএমএফের আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ঝুঁকি এখন উল্লেখযোগ্য এবং ক্রমবর্ধমান। ব্যাংক খাতে সংস্কার বিলম্বিত হলে বা রাজস্ব বৃদ্ধির গতি ধীর থাকলে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধীরে ধীরে ১২ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকি কমাতে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারীর ভিত্তি বৈচিত্র্যময় করার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। এ জন্য প্রাইমারি ডিলার পদ্ধতিসহ বিভিন্ন সংস্কারে কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাইমারি ডিলার ব্যবস্থা হলো এমন একটি কাঠামো, যেখানে নির্বাচিত কিছু ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি সরকারের কাছ থেকে সিকিউরিটিজ কিনে বাজারে বিতরণ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাড়তে থাকা ঋণ নবায়ন ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সুসংগঠিত দায় ব্যবস্থাপনা কাঠামো জরুরি।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ তাঁর লেখা এক নোটে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি ‘নিম্ন’ থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে নেমে এসেছে। যদিও আইএমএফের মানদণ্ডে ঋণের বর্তমান স্তর এখনও সহনীয়, তবু সতর্ক থাকার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, রপ্তানি আয় ও সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে। তাই রাজস্ব আদায় জোরদার করা এবং উচ্চ সুদের বাণিজ্যিক ঋণ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
সম্প্রতি বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারও আইএমএফকে দেওয়া জবাবে স্বীকার করেছে, কম রাজস্ব, বাড়তি ব্যয় এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দেশের ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাহিদা পূরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au