জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- তাইওয়ানের কাছাকাছি অবস্থিত নিজেদের দূরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ ইয়োনাগুনিতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে জাপান। দেশটির সরকার ২০৩১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই মোতায়েন সম্পন্ন করতে চায় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি।
টোকিওতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইয়োনাগুনি দ্বীপে আগে থেকেই একটি জাপানি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা ২০২২ সালেই ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার প্রথমবারের মতো এই মোতায়েনের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাল সরকার।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ অর্থবছর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু হবে এবং পরবর্তী ক্যালেন্ডার বছরের মার্চে তা শেষ হবে। ইয়োনাগুনি দ্বীপটি তাইওয়ান থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার পূর্বে এবং টোকিও থেকে প্রায় এক হাজার ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এ বিষয়ে একটি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে জাপান ও চীনের চলমান উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বেইজিং মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠানের ওপর তারা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত নভেম্বর মাসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানের ওপর কোনো আক্রমণ হলে টোকিও সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তাঁর ওই মন্তব্যের পর থেকে চীন জাপান সফরে নিজেদের নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করছে, যা জাপানের পর্যটন খাতে প্রভাব ফেলেছে।
চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই চলতি মাসের শুরুতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, জাপানে কিছু শক্তি সামরিক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি শুক্রবার পার্লামেন্টে বলেন, পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে বলপ্রয়োগ বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা জোরদার করেছে চীন। এ প্রেক্ষাপটে জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুত্রঃ এএফপি