রংপুরে দুই হিন্দু বাড়িতে চেতনানাশক প্রয়োগ করে সর্বস্ব লুট। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামে দুই সনাতনী পরিবারের ঘর থেকে গভীর রাতে চেতনানাশক প্রয়োগ করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দুই পরিবার মিলিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাগলাপীর-ডালিয়া সড়কসংলগ্ন এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি হলো কেদার চন্দ্র সরকার এবং গজেন্দ্র চন্দ্র সরকার।
ভুক্তভোগীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই তারা অস্বাভাবিক ঝিমুনিভাব ও অসুস্থতা অনুভব করছিলেন। রাতের খাবারের পর পরিবারের সবাই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে চুরি সংঘটিত করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা দেখেন দরজা ও জানালা ভাঙা, আলমারি ও শোকেসের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বড় ট্রাংক ও বাক্স বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে চোরেরা ভেতরের মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী গজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, “সকালে মাথা ভারী লাগছিল। বাইরে গিয়ে দেখি সব তছনছ। দেড় ভরি স্বর্ণ, ৫০ হাজার টাকা, কাসার বাসন ও ২৫টি দামি শাড়ি নিয়ে গেছে।”
অন্যদিকে কেদার চন্দ্র সরকারের ছেলে জীবন কৃষ্ণ সরকার শুভ জানান, বাড়িতে কয়েক দিনের মধ্যে বোনের ছেলের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ঘরে আনা হয়েছিল। এছাড়া নিজেদের দেড় ভরি স্বর্ণ ও প্রায় ৬৫ হাজার টাকাও দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে।
প্রতিবেশী বাবু মনোরঞ্জন বলেন, “সকালে আলমারি ও স্টিলের বাক্স বাইরে পড়ে ছিল, তবে ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল না।” স্থানীয়দের ধারণা, বাসিন্দাদের অচেতন করতে চুরির সময় চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই দুই বাড়িতে একই রাতে চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মেজবাহুল আলম দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি রামজীবন কুন্ডুও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গঙ্গাচড়া থানার ওসি মো. আব্দুর সবুর বলেন, “চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের একটি দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি, তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।”
স্থানীয়রা এই ঘটনায় সচেতন থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।