জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…
মেলবোর্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারি- পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। ডুরান্ড লাইনজুড়ে রাতভর গোলাবর্ষণ, মিসাইল হামলা এবং বিমান অভিযানের ঘটনা ঘটেছে বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটিকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে পাল্টা হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। তারা জানিয়েছে, ডুরান্ড লাইনের কাছে একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও পোস্ট দখলে নেওয়া হয়েছে। পাকতিকা, খোস্ত, নানঘারহার ও কুনার সেক্টরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তালেবান সরকার। আরও চারটি পোস্ট ছেড়ে পাকিস্তানি বাহিনী সরে গেছে বলেও জানানো হয়। তবে পাল্টা দাবিতে পাকিস্তান বলেছেন, তারা আফগানিস্তানের ১৩৩ জন সেনাকে হত্যা করেছে।
তালেবান মুখপাত্র Zabihullah Mujahid বলেন,
পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় নারী ও শিশুর মৃত্যুর জবাব দিতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে তাদের বক্তব্য। সংঘর্ষে তালেবানপন্থী আট যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান আফগানিস্তানের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ৩৬ জন আফগান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে ইসলামাবাদের দাবি।
এদিকে কাবুলে রাতভর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর কাবুল প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিট থেকে বিস্ফোরণ শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন অংশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট Hamid Karzai সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বিমান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় বোমাবর্ষণ করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khawaja Asif পরিস্থিতিকে পাকিস্তান ও তালেবান সরকারের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্ত, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট না হলেও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au