চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ২৮ ফেব্রুয়ারি- আফগানিস্তানের একাধিক শহরে পাকিস্তানের বড় ধরনের বিমান হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সীমান্ত পেরিয়ে পাল্টা হামলার সূচনা হয় পাকিস্তানে ধারাবাহিক কয়েকটি বড় হামলার পর। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় একটি সামরিক বহর লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন।
এর আগে আরেক হামলায় ১১ সেনাসদস্য ও এক শিশু প্রাণ হারান। ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকার খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত ও প্রায় ১৭০ জন আহত হন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা কিছু হামলাকারীকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার দাবি করেছেন।
ইসলামাবাদভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবদুল্লাহ খান মনে করেন, কাতার, তুরস্ক কিংবা সৌদি আরবের মধ্যস্থতার উদ্যোগ এই উত্তেজনা নিরসনে কার্যকর হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি পাকিস্তানের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই হাজার চার শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সময় টিটিপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্যোগ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে হামলার মাত্রা বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
পাকিস্তান এখন আফগান ভূখণ্ডে টিটিপির আস্তানা লক্ষ্য করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ইসলামাবাদ নতুন এক ‘প্রতিরোধ কাঠামো’ গড়ে তুলতে চায়, যাতে আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো হামলা হলে কাবুলকে তার মূল্য দিতে হয়।
দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়িয়েছে আফগান শরণার্থী ইস্যুও। কয়েক দশকের সংঘাতের পর প্রায় ৩০ লাখ আফগান নাগরিক পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে হাজার হাজার শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
গত অক্টোবরে সীমান্ত উত্তেজনার সময় আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফর করেন। কাবুলভিত্তিক বিশ্লেষক ইব্রাহিম বাহিস মনে করেন, ওই সফর এবং নয়াদিল্লিতে তাকে উচ্চপর্যায়ের অভ্যর্থনা পাকিস্তানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংঘর্ষ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। পাকিস্তানের তুলনায় আফগানিস্তানের প্রচলিত সামরিক শক্তি সীমিত। তা ছাড়া উভয় পক্ষই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
তবু সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত হওয়ার লক্ষণ নেই। ইসলামাবাদ স্পষ্ট জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে যারা পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au