আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ মার্চ- সমালোচনার পর এবার নতুন বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা জানার পর তারা গভীরভাবে ‘মর্মাহত’। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হত্যার ঘটনা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসেনা। কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে।
এর আগে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছিল। ওই বিবৃতিতে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও ইরানে হামলা ও খামেনির হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি, যা সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর ফাইল ছবি
শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতি নিহত হন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এ হামলায় মৃতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচশ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে কয়েক ডজন নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন।
এই হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে বিমানঘাঁটি ও সামরিক রসদ থাকা স্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রোববারের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে জরুরি সভা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রোববার ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমাধান ও উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। আমরা চাই পরিস্থিতির অবনতি না ঘটুক। কূটনৈতিকভাবে সমাধান হোক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববারের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানে হামলার পর দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া সংঘাত চালালে তা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক জনগণের সমৃদ্ধিকে বিপন্ন করবে। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে এবং আশা করছে, শিগগির পরিস্থিতি শান্ত হয়ে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।