জাতিসংঘের পতাকা। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৪ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে শিশুদের ওপর যে সহিংসতা নেমে এসেছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলেছে, ইরান এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত সামরিক অভিযান ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং তা শিশুদের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসামরিক মানুষ, স্কুল ও হাসপাতাল কোনোভাবেই হামলার লক্ষ্য হতে পারে না বলে সংস্থাটি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, প্রতিটি শিশুর ভয়মুক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় নিহত ১৬৫ শিক্ষার্থী ও কর্মীর জন্য মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে চলমান অভিযানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার নিন্দা
কুয়েত সরকার দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কুয়েতের মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, যেসব দেশ ইরানের হামলার শিকার হয়েছে তাদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে কুয়েত এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যে পদক্ষেপ নেবে, তাতে সমর্থন থাকবে।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে সীমিত আকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে তেলের উচ্চমূল্য মেনে নেওয়া সম্ভব। তার ভাষ্য, ইরান থেকে উদ্ভূত আসন্ন হুমকি দূর করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমানঘাঁটিসহ বহু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। তার কথায়, প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরান পাল্টা জবাবে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, ধারাবাহিক হামলার কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ইরান বহু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, আবার অনেকগুলো প্রতিরোধও করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।