ইরানের নয় নৌযান ধ্বংস ও ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ মার্চ- ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সংঘাত শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সামরিক ও নেতৃত্ব কাঠামো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। এদিকে যুদ্ধের পাঁচ দিনে এক হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধে ক্রমেই প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে রয়েছে। এক পর্যায়ে কেউ তাকে ১০ এর মধ্যে অভিযানের মূল্যায়ন কত দেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এটি ১৫ দেবেন।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় ইরানের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা একের পর এক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং যারা নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসছেন, তারা দ্রুতই নির্মূল হচ্ছেন।
সংঘাতের পঞ্চম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিতভাবে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি হলো শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সাবমেরিনের অভিযানে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নৌযুদ্ধে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, চলমান অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির সামরিক অবকাঠামোকে অকার্যকর করে দেওয়া। ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার দ্রুত ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে এবং ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রব্যবস্থা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্তকে আবারও সঠিক বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান ক্রমশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তার মতে, উন্মত্ত গোষ্ঠীর হাতে পারমাণবিক অস্ত্র চলে গেলে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সপ্তাহের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে যে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েল অভিযান শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই অভিযান এখনও শেষ হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র সামনে এগিয়ে যাবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী ও নৌ সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। তবে প্রশাসনের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের বিপরীতে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি ট্রাম্প।
সমালোচকেরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তেহরানে সরকার পরিবর্তন চায় কি না, সে প্রশ্নেও হোয়াইট হাউস স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান শেষ হলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে