যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: অস্ট্রেলিয়া কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা…
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার সকাল ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল। তিনি জানান, যৌথ বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর থেকেই জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলোতে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযানের সময় কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
গত জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার পর জঙ্গল সলিমপুর নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার হত্যার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানা-য় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মোহাম্মদ ইয়াসিন-কে। এ ছাড়া নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিদের ধরতে গেলে মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের ওপর রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় র্যাবের আটক করা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি-এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকায় বিস্তৃত এই অঞ্চল সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও নগরের খুব কাছাকাছি।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে সেখানে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। এখনো পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এই বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও দখল ধরে রাখতে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বর্তমানে দুটি সশস্ত্র পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন রোকন উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, মোহাম্মদ ইয়াসিন আগে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুন-এর অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী-এর অনুসারী বলে দাবি করে আসছেন। তবে র্যাব কর্মকর্তা হত্যার ঘটনার পর আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই এবং ওই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au