ধর্ষণের শিকার ৭ বছর বয়সী এক শিশু মেয়েকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ মার্চ- নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ৭ বছর বয়সী এক শিশু মেয়েকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই মাস আগে এই ঘটনায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় অপারেশন করে সংক্রমণের কারণে তার জরায়ু অপসারণ করেন। শিশুটির বাবা জানান, শিশুটি ভবিষ্যতে মা হতে পারবে না।
অমানবিক ও মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের শাসনউড়া গ্রামে।অভিযুক্ত কিশোরের নাম নুরজামাল (১৬)। সে একই এলাকার নিজামউদ্দিনের ছেলে এবং সম্পর্কে শিশুটির প্রতিবেশি চাচা হয়।
শিশুটির পরিবার জানায়, আজ থেকে প্রায় দুই মাস আগে (জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে) নিজ বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নেয় নুরজামাল। কৌশলে অবুঝ শিশুটিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় সে এবং তার ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন। ঘটনার ভয়াবহতায় ও ভয়ে শিশুটি প্রথমে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। এমনকি বিষয়টি কাউকে না বলতে শিশুটিকে মেরে ফেলারও ভয় দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা সরিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। কিছুদিন পর মেয়ের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে আমরা তাকে স্থানীয় ডাক্তার দেখাই। ওষুধ খেলে সে কিছুদিন সুস্থ থাকে, কিন্তু এরপর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে চলতে চলতে কয়েকদিন আগে পেটের ব্যথা চরম আকার ধারণ করলে ডাক্তার আমাদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর পরামর্শ দেন।”
আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারটির মাথায়। ডাক্তাররা জানান, শিশুটির সাথে মারাত্মক খারাপ কিছু ঘটেছে। পরে মেয়েকে আশ্বস্ত করে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, কীভাবে নুরজামাল তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে এই সর্বনাশ করেছে। সরিকুল ইসলাম আরও জানান, এই ঘটনার পর একদিন তার স্ত্রী নুরজামালকে শিশুটিকে ডাকতে দেখেছিলেন। তখন সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জীবন বাঁচানোর তাগিদে চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচার করেন। মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে রিলিজ পাওয়ার সময় চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান এক ভয়াবহ দুঃসংবাদ। পাশবিক নির্যাতনের কারণে ডিম্বাণু ও জরায়ুতে মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছিল। তাই শিশুটিকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তার জরায়ু কেটে ফেলতে হয়েছে। সরিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বাচ্চাটা আর কোনোদিন মা হতে পারবে না।”
বর্বর এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সরিকুল ইসলাম জানান, “এলাকা থেকে অনেকেই আমাকে ফোন করে চাপ দিচ্ছে যেন আমি মামলা না করি। তারা টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলতে বলছে। কিন্তু আমি আমার মেয়ের এই সর্বনাশের বিচার চাই। আমি বাড়ি ফিরে গিয়ে থানায় মামলা করবো।”
তবে এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটির কর্মসূচি ব্যবস্থাপক কোহিনূর বেগম জানান, “ভিকটিম ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের একজন কর্মীর মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করে আশ্বাস দিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।”
অন্যদিকে, বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে থানায় এখনও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”