নেপালে প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- নেপালে সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে…
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- ইরানে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানে হামলার জন্য কার্যত আর কোনো লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট নেই এবং খুব শিগগিরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে আঘাত করার মতো এখন প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। তার ভাষায়, সামান্য কিছু বিচ্ছিন্ন লক্ষ্যবস্তু ছাড়া বড় ধরনের কিছু আর নেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে সেটি অনেকটাই তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, তিনি যখনই চাইবেন তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানে এই সংঘাতের সূচনা হয়। ওই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আশাবাদী বক্তব্যের বিপরীতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ হবে না। প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চলবে।
রয়টার্স এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরানে সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের ইসফাহান শহরের কাছে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১৩টি যুদ্ধবিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে।

ইরানের ইসফাহান শহরের কাছে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১৩টি যুদ্ধবিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। ছবিঃ বিবিসি
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের অনুসন্ধানভিত্তিক বিশ্লেষণ ইউনিট বিবিসি ভেরিফাই স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি কোম্পানি ইন্টেলিজেন্স ভেঞ্চার গত সোমবার ইসফাহানের অষ্টম শিকারি বিমানঘাঁটির নতুন ছবি ধারণ করে।
এসব ছবিতে দেখা যায়, কয়েকটি বিমান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং সেখানে কেবল পোড়া দাগ অবশিষ্ট রয়েছে। কিছু জায়গায় বিমানের ধ্বংসাবশেষ এখনো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ৯ মার্চে তোলা স্যাটেলাইট ছবির তুলনা করে দেখা গেছে, ওই স্থানে আগে এফ-১৪ এবং এফ-৭ ধরনের যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল। তবে স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি যে ঠিক কোন কোন বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বা কতগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ইসফাহান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত এই সামরিক ঘাঁটির বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং অন্যান্য অবকাঠামোতেও দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ইরানের অন্তত চারটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধবিমান শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ছয়টি ঘাঁটির বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংঘাতের বিস্তার এবং পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়ে গেছে। তাই যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।
সূত্রঃ রয়টার্স ও বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au