অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যা: আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনের নামে মামলার আবেদন আদালতে খারিজ , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ১২ পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে দায়েরের জন্য করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেনের ছোট ভাই জালাল হোসেন এই মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি আবেদনটি আমলে না নিয়ে খারিজ করে দেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অনিক দেওয়ান।
মামলার আবেদনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পাশাপাশি আরও যাদের আসামি করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, আব্দুল কাদের, আবু বকর মজুমদার, রিফাত রশিদ, হাসিব আল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, উমামা ফাতেমা ও আরিফ সোহেলসহ মোট ৪২ জন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জুলাই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা যাত্রাবাড়ী থানার সামনে হামলা চালান। এ সময় অন্তত সাত থেকে আটটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা থানা ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রে আগুন দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তৎকালীন ওসি আবুল হোসেনসহ ১২ জন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতায় মোট ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে তালিকা প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার।
গণঅভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ছাত্রনেতাদের প্রতিনিধিত্বে সরকারে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ আন্দোলনের তিন নেতা। পরে নির্বাচনের আগে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে গত ২৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। ওই অধ্যাদেশে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সরকারের ভেতরেও ভিন্নমত দেখা যায়। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত করা হবে।
তবে পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি এবং তার নামে যে বক্তব্য প্রচার হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।