পাশাপাশি কবরে শায়িত একই পরিবারের ৯ জন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- মোংলা-খুলনা মহাসড়কে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নয়জন সদস্য একসাথে মারা যাওয়ার ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরপক্ষ মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়। বর-কনেসহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জন ছিলেন মাইক্রোবাসে। মোংলার কাছে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের সকল যাত্রী নিহত হন। আহত একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন বর আহাদুর রহমান, তাঁর বাবা আবদুর রাজ্জাক, বরের ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), উম্মে সুমাইয়ার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলমের স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল), তাঁদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম, কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম।
ভোরে নিহতদের মরদেহ মোংলার শেহলাবুনিয়ার আ. ছাত্তার লেনের বর-এর বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে ঘটনাস্থলে দাঁড়ান। আবদুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে চার নারীর মরদেহ রাখা হয়, আর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাকি পাঁচজনের মরদেহ রাখা হয়। প্রতিবেশী নাসির খাঁন বলেন, ‘একসাথে একই পরিবারের এতগুলো লাশ আগে দেখিনি। এটা সহ্য করার মতো না।’
নিহতদের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, বর আহাদুরের মোংলা শহরে মোবাইল ফোনের দোকান ছিল এবং পরিবারের সবাই বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মাইক্রোবাসে রওনা হয়েছিল। বর-এর বড় ভাই আশরাফুল আলম (জনি) পেছনের মোটরসাইকেলে থাকায় তিনি জীবিত থাকলেও চোখের সামনে নিজের স্ত্রী, তিন সন্তান ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের একসাথে হারানোর মর্মান্তিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। জনি জানান, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি একা হয়ে গেলাম।’
আরও পড়ুনঃ