বিশ্ব

যেভাবে ইরানের ‘অর্থনীতির হার্টে’ হামলা করে যুদ্ধে জিততে চাইছেন ট্রাম্প

  • 9:53 pm - March 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২০ বার

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধের ১৫তম দিনে এসে দেশটির ‘অর্থনীতির হার্ট’ বা ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপে অবস্থিত সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কঠোর হুমকি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে সেখানে থাকা তেলের অবকাঠামোতেও হামলা করবেন তিনি।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘শালীনতার কারণে, আমি দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, যদি ইরান, বা অন্য কেউ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আমি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।’

এমন হুমকির পর ইরানের কাছে স্পর্শকাতর এই দ্বীপটি সারা পৃথিবীর মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে ইরান সরকারও।

খার্গ দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত ছোট একটি দ্বীপ। বুশেহর প্রদেশের ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রবাল খণ্ডটি সাধারণ ইরানিদের কাছে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামে পরিচিত। যদিও সেখানে অল্প কিছু মানুষ বসবাস করে। তবে তীব্র গোপনীয়তায় আবৃত এবং অভিজাত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দ্বারা সুরক্ষিত এই স্থানে সরকারী নিরাপত্তা পাসধারী ছাড়া কেউই প্রবেশ করতে পারে না। সুবিশাল ইস্পাতের বেড়া এবং সামরিক প্রহরায় দ্বীপটিকে দুর্গ বানিয়ে রাখা হয়েছে।

মূলত ইরানের আধুনিক শক্তি সাম্রাজ্যের মূল শক্তি এই দ্বীপটি থেকেই তাদের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি হয়। যে কারণে খার্গ দ্বীপকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, ইরানের সবচেয়ে ‍দুর্বলতম জায়গা এটাই। এখানকার তেল অবকাঠামোতে হামলা করা মানে ইরানের দ্রুত পরাজয় নিশ্চিত করা। এই বিবেচনা থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খার্গ দ্বীপকে ‌‌‌লক্ষ্যবস্তু করতে চাইছেন।

বিশেষ বাহিনী পাঠাবে ট্রাম্প
এই মাসের শুরুতে মার্কিন নিউজ আউটলেট ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবছেন। সেই খবর এরই মধ্যে সত্যতা পেতে চলেছে। ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি দল যাত্রা করেছে মধ্যপ্রাচে। জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে ‘৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ এর সঙ্গে রয়েছে বিশেষ যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’। যেটি উভচর বা জল-স্থলে যুদ্ধ করতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধজাহাজ থেকেই মেরিন সেনারা খার্গ দ্বীপের তেল ক্ষেত্র নিজেদের দখল নেওয়ার পরিকল্পা করছে। সাধারণ কোনো বিশেষ সংকট মোকাবিলা কিংবা কোনো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনে এই বিশেষ বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই মেরিন সেনাই ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা মধ্যকার যুদ্ধে মোতায়েন হওয়া প্রথম মার্কিন স্থলসেনা।

তাহলে ইরান কী করবে
ইরান নিজেও বেশ ভালো করেই জানে তার প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা হলে আরও বিপদে পড়তে হবে। তাই দেরি না করে এই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সতর্ক করে বলেছে, ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করা তেল কোম্পানিগুলোর জ্বালানি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হবে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের কোম্পানির তেল ও জ্বালানি স্থাপনা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে ছাইয়ে পরিণত করা হবে।

আতঙ্কে চীন
খার্গ দ্বীপ থেকে বড় বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। যাদের বেশিরভাগের গন্তব্য চীন। দেশটি ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এমন পরিস্থিতিতে যদি দ্বীপটিতে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে পঙ্গু করে দেবে তাই নয়, চীনের অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি শুধু ইরানের পাশাপাশি চীনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। চীনের এখন চিন্তার কারণ তার বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপদে অপরিশোধিত তেল নিয়ে কিভাবে দেশের বন্দরে নোঙর করবে?

বিশ্ব বাজারে প্রভাব
ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, খার্গ দ্বীপের তেল ক্ষেত্র এই খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এর টার্মিনালের তিনটি প্রধান অফশোর ক্ষেত্র – আবুজার, ফোরুজান এবং দোরুদ। এসব ক্ষেত্র থেকে প্রথমে অপরিশোধিত তেল গ্রহণ করে। এরপর সমুদ্রের নীচে পাইপলাইনের একটি জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমুদ্রের উপর প্রক্রিয়াকরণের পাঠানো হয়। তারপর সেই তেল বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করা হয়। বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সত্ত্বেও ইরান এই দ্বীপের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করেছে।

২০২৫ সালে এসএন্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস রিপোর্টে বলা হয়, তেহরান ২৫ এবং ২৬ নম্বর ট্যাঙ্ক পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে টার্মিনালের স্টোরেজ ক্ষমতায় দুই মিলিয়ন ব্যারেল যোগ করে। এর প্রতিটি ট্যাঙ্ক ১০ লক্ষ ব্যারেল ধারণ করতে সক্ষম। এখন টার্মিনালগুলোর লোডিং ক্ষমতা প্রতিদিন সাত মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

তাই এমন স্পর্শকাতর এলাকায় হামলা শুধু ইরানের জন্য নয়, পুরো বিশ্বকেই সঙ্কটের মুখোমুখি করবে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

এই শাখার আরও খবর

‘মব’ হামলার পর গ্রেফতার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- বগুড়ায় গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি থাকা আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্ত (৬০) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ…

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ইরান যুদ্ধ: ১৫তম দিনে কী ঘটছে?

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলের সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল ও বৃহত্তর আকার ধারণ করেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু…

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলন

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে তারা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে…

মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত ৩ হাজার টাকা

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সম্মানী প্রদানের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। শনিবার (১৪…

অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- আগামী ২০ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ বছর ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ফতোয়া…

উঠে যাচ্ছে যানবাহনে তেল রেশনিং, পর্যাপ্ত তেল পাবে দূরপাল্লা ও গণপরিবহন

মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- দেশে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনের জন্য তেলের রেশনিং পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম শনিবার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au