জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে আইইএ
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই তেল বাজারে…
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- গত কয়েক মাস ধরে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা বিজেপির লড়াই ছিল প্রকাশ্যে। সেই লড়াই আরও তীব্র হয় যখন অর্ধকোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ে যায় তালিকা থেকে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করে। এরই মধ্যে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা ভোটের তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছেন রোববার।
ভোটের আগেই বিজেপির ‘জয়’
বিজেপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ১ বা ২ দফায় ভোট নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে। সেটিই কার্যত মেনে নিয়েছে কমিশন। এ জন্য ভোটযুদ্ধের এই ঘোষণা অন্য রাজ্যগুলো স্বাভাবিকভাবে নিলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনক্ষুণ্ণ হয়েছেন। তাছাড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা, ভোট ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের বিরুদ্ধে গেছে বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের আগেই বাদ পড়া তালিকা থেকে বৈধ ভোটার বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হবে। যে কাজটি করা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে।
সর্বশেষ নির্বাচনের ফল
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ২৯৪ আসনের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০২১ সালে। ওই নির্বাচনে বিজয়ী দল তৃণমূল পেয়েছিল ২১৩ আসন। বিজেপি ৭৭ আসনে জয়ী হয়। বাম দল এবং কংগ্রেস কোনো আসনে জিততে পারেনি।
তফসিল
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনে ভোট হবে দুই পর্বে, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য তিন রাজ্য আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে ভোট নেওয়া হবে এক দফায়। এসব রাজ্যের মধ্যে আসাম, কেরালা ও পদুচেরিতে ভোট হবে ৯ এপ্রিল। আর তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। সবগুলো রাজ্যেই ভোট গণনা হবে ৪ মে।
৪৮ বছর পর দুই দফায় ভোট
সবশেষ বিধানসভা নির্বাচনে ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। ৪৮ বছর পর এবারই ২ দফায় হচ্ছে। মূলত এটা ছিল বিজেপির দাবি। আর এতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দুই দফায় ভোট নেওয়ার ফলে এবার ছাপ্পা ভোট দিতে পারবে না তৃণমূল। দলটির বিরুদ্ধে বরাবরই এমন অভিযোগ উঠেছে, ভোটকেন্দ্র দখল করে জিতে আসে তারা।
এর আগে ১৯৭৭ সালের দুই দফায় ভোট হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। পরে ২০০১ সাল পর্যন্ত ভোট নেওয়া হয়েছিল এক দফায়। পাঁচ দফায় ভোট নেওয়া শুরু হয় ২০০৬ সালে। ২০১১ সালে ভোট হয়েছিল ছয় দফায়। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালে ভোটগ্রহণ করা হয় যথাক্রমে ৭ ও ৮ দফায়।
কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ ১৫ লাখ ভোটকর্মী
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ভোটারসংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লাখ। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭১৯টি। প্রথম দফায় ভোট হবে ১৫২টি আসনে আর দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত হবে ১৪২টি আসনে। শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য আগেই নিয়োগ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। থাকবেন ১৫ লাখ ভোটকর্মী।
নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। নিয়োজিত থাকবেন ৪৯ হাজার মাইক্রো অবজারভার, ১ হাজার ৪৪৪ জন অবজারভার, ৪০ হাজার গণনাকর্মী, ২১ হাজার সেক্টর অফিসার এবং গণনার জন্য ১৫ হাজার মাইক্রো অবজারভার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au