কার্পেন্টার বলেছেন, এই ম্যাটিল্ডাস স্কোয়াডের জন্য শনিবার একটি “জীবনে একবারই আসে এমন সুযোগ”। ছবি: ক্যামেরন
মেলবোর্ন, ২০ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার নারী ফুটবল দল ম্যাটিল্ডাসের সামনে এখন ‘ডু অর ড়াই’ লড়াই। ঘরের মাঠে এক ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এশিয়ান কাপের ফাইনালে শক্তিশালী জাপানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। বহুদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে স্বপ্নের ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়ার এই সোনালি প্রজন্ম, আর সেই ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যেই দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শনিবার সিডনির অলিম্পিক পার্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনালকে ঘিরে স্টেডিয়ামভর্তি দর্শকের প্রত্যাশা করছে ম্যাটিল্ডাস শিবির। প্রায় ৮৩ হাজার ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে টিকিট প্রায় শেষের পথে বলে জানা গেছে। ঘরের মাঠে এমন একটি বড় ম্যাচে নিজেদের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ দেখছে দলটি।
ফাইনালে উঠতে সেমিফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনকে ২–১ গোলে হারায় ম্যাটিল্ডাস। অন্যদিকে জাপান দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪–১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সঙ্গে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ফলে দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
ম্যাচের আগে দলের ডিফেন্ডার এলি কার্পেন্টার বলেন, এই দলটি দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছিল ২০২৩ বিশ্বকাপে, আর এখন তারা সেই সমর্থনকে শিরোপায় রূপ দিতে চায়। তিনি বলেন, এটি তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি। তার ভাষায়, এ ধরনের সুযোগ জীবনে একবারই আসে, আর সেটি কাজে লাগাতে মরিয়া তারা।
কার্পেন্টার আরও বলেন, প্রায় ১৬ বছর ধরে এই ট্রফি জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দলের অনেক খেলোয়াড়ের জন্য এটি শেষ বড় টুর্নামেন্ট হতে পারে, তাই সবার মধ্যেই রয়েছে বাড়তি প্রেরণা। তিনি মনে করেন, এই ম্যাচ শুধু একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করারও সুযোগ।
ম্যাটিল্ডাসের কোচ জো মন্টেমুরোও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই শিরোপা জেতা শুধু দলের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফল পাওয়ার সুযোগ এটি। তিনি জানান, দলের খেলোয়াড়রা এই মুহূর্তের জন্য অনেক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং তারা নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।
ফাইনালের আগে দর্শকসংখ্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেমিফাইনালে চীনের বিপক্ষে ম্যাচে পার্থের অপ্টাস স্টেডিয়ামে অনেক খালি আসন দেখা গিয়েছিল, যদিও উপস্থিতি ছিল ৩৫ হাজারের বেশি। তবে ফাইনালে সেই চিত্র বদলাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তিনি ওই সময় মেলবোর্নে থাকবেন বলে জানা গেছে। এর আগে একটি খেলার উদযাপনে মাঠে নেমে পড়ায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
জাপানের বিপক্ষে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ মানতে নারাজ কোচ মন্টেমুরো। তার মতে, ফাইনালে কোনো দলই এগিয়ে থাকে না। তিনি বলেন, জাপান খুবই সংগঠিত দল, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। তবে তাদের দুর্বলতাও রয়েছে, আর সেটি কাজে লাগাতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব।
দলের তারকা স্ট্রাইকার স্যাম কারের অনুপস্থিতি সংবাদ সম্মেলনে নজরে এলেও কোচ জানান, তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। মিডিয়ার চাপ ভাগ করে নিতে অন্য খেলোয়াড়দের সামনে আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্টেমুরো বলেন, এই টুর্নামেন্টে ম্যাটিল্ডাসের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। কঠিন সময়ে তারা নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফিরে আসতে পেরেছে।
ফাইনালের আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হবে। জনপ্রিয় অস্ট্রেলীয় সংগীতশিল্পী জি ফ্লিপ মঞ্চে উঠে দর্শকদের উজ্জীবিত করবেন। এরপর রাত ৮টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন সিডনিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, এমনকি বিকেলে বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে। দর্শকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কারণ একই সময়ে শহরের ক্রীড়াঙ্গনে অন্য একটি বড় ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।
এই ফাইনালে জয় পেলে আগামী বছরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস ও গতি ফিরে পাবে ম্যাটিল্ডাস। তাই এই ম্যাচ শুধু একটি শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যতের পথচলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।