আগামী পাঁচ বছরে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন অস্ট্রেলিয়ানরা
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি ধারাবাহিক একাধিক সংকটের…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে কুমিল্লায় ভয়াবহ এক রেল দুর্ঘটনায়। শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকার একটি লেভেল ক্রসিংয়ে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। রোববার দুপুর থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্বজনদের ভিড় জমে, প্রিয়জনদের মরদেহ শনাক্ত করতে গিয়ে বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের বাসিন্দা পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)। পরিবারটি যশোর থেকে নোয়াখালীতে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ব্যক্তিগত কারণে পথে ঢাকায় নেমে যান পিন্টু ইসলাম। রাত ১২টার দিকে মেয়েদের সঙ্গে ছিল তার শেষ কথা।
মর্গে এসে স্ত্রী ও সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করার পর ভেঙে পড়েন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি কী নিয়ে বাঁচব জানি না। ঈদের খুশিতে তারা নানাবাড়ি যাচ্ছিল, কিন্তু আর কোনো দিন তাদের সঙ্গে দেখা হবে না।”
অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জুহাদ বিশ্বাস। তার স্ত্রী রুমি আক্তার দেড় বছরের শিশুকন্যা মরিয়মকে বুকে জড়িয়ে লাশঘরের সামনে আহাজারি করছিলেন। ঈদের আগে বাড়ি যেতে না পারায়, ঈদের দিন রাতেই ঝিনাইদহ থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন জুহাদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়ের মুখ আর দেখা হলো না তার।
রুমি আক্তার বলেন, “আমার আর মেয়ের তো পৃথিবীতে কেউ রইল না,”-তার এই আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
এদিকে নিহত সাঈয়্যেদার লাশ নিতে মর্গে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার খালা সাহিদা সুলতানা। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় সাঈয়্যেদার মা-বাবাও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। “সাঈয়্যেদা তো মারা গেছে, এখন ওর মা-বাবাও বাঁচবে কি না জানি না,”-বলেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডা. মো. শাহজাহান, উপপরিচালক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সবার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হঠাৎ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঈদের আনন্দ ভেসে গেছে অশ্রুতে, শোকের ভারে নুয়ে পড়েছে বহু পরিবার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au