সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়াজুড়ে ‘করোনা-সদৃশ’ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপ এবং এর জেরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় অনেক দেশ জরুরি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এশিয়ার বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে পেট্রল পাম্পে জ্বালানি সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক দেশ কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের মতো বিধিনিষেধ আরোপ করছে। বাড়ি থেকে কাজ, অফিস সময় কমানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতিকে মহামারির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ভারতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালি খাতে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। রাজধানী দিল্লিতে জরুরি ভিত্তিতে এলপিজি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
চীন জ্বালানির দাম বাড়ালেও তাদের মজুত তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। জাপান সরকার প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ইয়েন ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে এবং কৌশলগত মজুত থেকে সরবরাহ শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাকে অতিরিক্ত তেল ছাড়ের প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিপাইন জরুরি জ্বালানি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র পরিস্থিতিকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে পাকিস্তানে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কায় সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডেও জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইতোমধ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং ও বিমান পরিবহন খাতে অস্থিরতা বেড়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au