জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে ভিডিও পোস্ট
মেলবোর্ন, ২৮ মার্চ- শরীয়তপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে দুর্বৃত্তরা এই আগুন লাগায় বলে জানা গেছে।…
মেলবোর্ন, ২৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় প্লাস্টিক প্যাকেজিং খাতে নতুন করে শুল্ক আরোপের আলোচনা জোরালো হয়েছে। দেশটির সরকার ও শিল্পখাত মনে করছে, এই সংকট প্যাকেজিং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে প্যাকেজিং উৎপাদকদের ওপর একটি নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং যারা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করবে না বা পুনর্ব্যবহার ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য জরিমানা। এর মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি প্যাকেজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
শিল্পখাতের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে এই শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহারের বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও ভাবা হচ্ছে।
পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের সংগঠনগুলো বলছে, ২০২৩ সালে এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে বিষয়টি গুরুত্ব হারায়। তবে ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা আবারও সরকারকে এ বিষয়ে সক্রিয় করেছে। বিশেষ করে তেলনির্ভর প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমানো এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
দেশটির পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পরিবেশ আইন সংস্কারের পর প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা উন্নয়নই হবে পরবর্তী অগ্রাধিকার। তবে বাস্তবে অগ্রগতি না হওয়ায় রাজ্য পর্যায়ের মন্ত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০২৩ সালে তৎকালীন মন্ত্রী তানিয়া প্লিবারসেক প্যাকেজিংয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ পুনরুদ্ধার সংস্থার প্রধান নির্বাহী গেইল স্লোন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে খাদ্য, খুচরা পণ্য ও অন্যান্য প্যাকেজিং কতটা বৈশ্বিক সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পদক্ষেপ না নিলে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার কাছে অসহায় হয়ে পড়বে।
তার মতে, দেশীয় পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং ব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু সরবরাহ নিরাপত্তা বাড়াবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকাগুলোতে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকিও কমাবে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের মাত্র ২০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়, যেখানে কাঁচ ও কার্ডবোর্ডের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। শিল্পখাতের দাবি, স্থানীয়ভাবে পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় তা আমদানি করা প্লাস্টিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
সরকার ইতোমধ্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো উন্নয়নে ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও সেই সক্ষমতার অর্ধেকও এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে জরিপে দেখা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল অব রিসাইক্লিংয়ের প্রধান সুজান টুম্বোরো বলেন, পুনর্ব্যবহার খাতটি একটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন চক্র, যার প্রতিটি ধাপ কার্যকর না হলে পুরো ব্যবস্থাই ব্যর্থ হয়ে যায়। তার মতে, বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে দেশীয় পুনর্ব্যবহৃত উপকরণের চাহিদা তৈরি করা জরুরি।
একটি যৌথ প্রতিবেদনে প্রস্তাব করা হয়েছে, সব প্যাকেজিং উৎপাদকের ওপর শুল্ক আরোপ করলে দেশীয় ও আমদানিকৃত প্যাকেজিংয়ের খরচের ব্যবধান কমে আসবে। এতে করে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু প্লাস্টিক পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হলে সাপ্তাহিক বাজার খরচে সর্বোচ্চ ৩১ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় হতে পারে। তবে এর ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টন প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যা মোট প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের মাত্র ২০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়। ছবিঃ এবিসি নিউজ
এই শুল্ক আরোপ করা হবে বাজারে পণ্য সরবরাহকারী বড় ব্র্যান্ডগুলোর ওপর, যেমন নেসলে, বেগা, কোলস এবং উলওয়ার্থস। তারা বাজারে যত বেশি প্যাকেজিং ব্যবহার করবে, তত বেশি শুল্ক দিতে হবে। কম পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে এই শুল্ক আরও বেশি হবে।
এই খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ করা হবে, যা দেশীয় শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
একই সঙ্গে এমন প্যাকেজিংয়ের জন্য অতিরিক্ত জরিমানার প্রস্তাবও রয়েছে, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় বা যার মধ্যে পুনর্ব্যবহৃত উপাদান নেই। এতে করে কোম্পানিগুলোকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহিত করা যাবে।
যুক্তরাজ্যের মতো একটি মডেল অনুসরণের কথাও ভাবা হচ্ছে, যেখানে প্যাকেজিংয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত না হলে প্রতি কেজিতে জরিমানা দিতে হয়।
পরিবেশবাদী সংগঠন বুমেরাং অ্যালায়েন্সের পরিচালক জেফ অ্যাঞ্জেল বলেন, প্যাকেজিং উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে তাদের পণ্যের দায় নিতে হবে। বর্তমানে এই বর্জ্য পরিষ্কারের খরচ বহন করছে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সরকার, যা ন্যায়সংগত নয়।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি, যা এখনো প্রায় ১২.৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও এটি ওইসিডি দেশগুলোর গড়ের কাছাকাছি, তবুও লক্ষ্য অনুযায়ী অগ্রগতি হয়নি।
গত বছর শিল্পখাতের সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান প্যাকেজিং কোভেন্যান্ট অর্গানাইজেশন স্বীকার করে, ২০২৫ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের স্বেচ্ছা লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক তেল সংকট অস্ট্রেলিয়াকে তাদের প্যাকেজিং নীতিতে বড় পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার ও শিল্পখাত এখন এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে, যা একদিকে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি কমাবে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au