মেলবোর্ন, ২৮ মার্চ- পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এক্সমাউথ ঘূর্ণিঝড় ন্যারেলের ভয়াবহ আঘাতে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নীলাভ সমুদ্র, দৃষ্টিনন্দন প্রবালপ্রাচীর এবং সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত এই শহরটি এখন অনেকের কাছে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার মতো মনে হচ্ছে।
পার্থ থেকে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এক্সমাউথের ওপর দিয়ে ক্যাটাগরি চার মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ন্যারেল বয়ে যায়। ঝড়ের সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে থাকে, যা ঘরবাড়ি, অবকাঠামো এবং জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে। শহরটি প্রায় সরাসরি ঝড়ের পথের মধ্যে থাকায় ধ্বংসের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে।
শনিবার এক কমিউনিটি সভায় এক্সমাউথ শায়ারের প্রেসিডেন্ট ম্যাট নিইকুলা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে শহরের বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যদিও ধীরে ধীরে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে, তবে অনেক এলাকায় এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। তিনি বলেন, স্থানীয় বিমানবন্দর প্রায় “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে, ফলে আকাশপথে যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। শহরে প্রবেশের একমাত্র পাকা সড়কটি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক্সমাউথ কার্যত বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে জরুরি ত্রাণ, খাদ্য সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন পুনরুদ্ধার এবং বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শহরের বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য, পানি ও জরুরি সেবার সংকট আরও গভীর হতে পারে। একই সঙ্গে এই দুর্যোগ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।