ইরান নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তি না করার আহ্বান পাহলভির, ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ মার্চ- ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তিতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি। তার দাবি, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী আলোচনাকে কেবল সময়ক্ষেপণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গ্রেপভাইনে অনুষ্ঠিত Conservative Political Action Conference-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। ইরানের সর্বশেষ শাহর পুত্র পাহলভি সেখানে উপস্থিত রক্ষণশীল নেতাকর্মী ও ইরানি-আমেরিকানদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পান এবং মঞ্চে ওঠার সময় দাঁড়িয়ে করতালি দেওয়া হয়।
পাহলভি বলেন, বর্তমান ইরানি শাসকরা কখনোই শান্তির জন্য বিশ্বস্ত অংশীদার হতে পারে না। তার ভাষায়, তারা আলোচনার ভান করে সময় নেবে, পরে আবার আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
চলতি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, তিনি নিয়মিত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে চান না বলেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপট টেনে পাহলভি বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসা মানে সেই হুমকিকেই দীর্ঘায়িত করা।
৬৫ বছর বয়সী পাহলভি নিজেকে ইরানের সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। প্রায় ৪৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর সুযোগ পেলেই দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। তবে ইরানের বিরোধী রাজনীতি বিভিন্ন দল ও মতাদর্শে বিভক্ত থাকায় তার নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। ট্রাম্পও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব আসা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন এখন দ্বিধায় রয়েছে-তারা কি একটি অনিশ্চিত চুক্তির পথে যাবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়াবে।
বক্তব্যে পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে তার অবস্থানকে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তার এই মন্তব্যে সম্মেলনে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।