রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২ এপ্রিল- ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের টারনেট উপকূলের কাছে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আশপাশের দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের ফলে স্থানীয় অনেক বাসাবাড়ি ধসে পড়েছে। দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
টারনেটের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ান্তো জানান, তিনি ঘরের ভেতরে ছিলেন যখন হঠাৎ দেয়াল কাঁপতে শুরু করে। কম্পনটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়।
তিনি বলেন, আমি বাইরে বেরিয়ে দেখি অনেক মানুষ রাস্তায়। সবাই আতঙ্কিত ছিল… এমনকি কেউ কেউ গোসল শেষ না করেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা সাইফুল স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, শুরুতে কম্পন হালকা ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে তা তীব্র হয়ে ওঠে। আমার ঘরটা খুব জোরে কাঁপতে থাকে, তখন আমরা সবাই দ্রুত বাইরে চলে যাই।
অন্যদিকে মানাদো শহরে ফানলি নামের এক চালক জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে দেন, যাতে গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে গাড়ির ওপর না লাগে।
মানাদোতে অবস্থানরত এক সাংবাদিক জানান, ভূমিকম্পের কারণে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং দ্রুত বাইরে চলে আসেন। তার মতে, কম্পন বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল, তবে তিনি বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৭ দশমিক ৮ হিসেবে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার নর্থ মালুকু প্রদেশের কাছে টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কিছু ভবনের ক্ষতির ছবিও প্রচার করা হয়েছে।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামি আঘাত হানতে পারে।
প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ০ দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এছাড়া গুয়াম, জাপান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের উপকূলে ০ দশমিক ৩ মিটারের কম উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এ অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au