মেলবোর্ন, ৭ এপ্রিল- জুলাই আন্দোলনের সময় লালবাগ থানায় দায়ের করা এক হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারক আরিফুর রহমান।
দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটের দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শিরীন শারমিনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হলে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কিছুটা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় তাকে। শুনানি শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন এবং জামিন আবেদন উভয়ই খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ছবিঃ সংগ্রহীত
এর আগে লালবাগ জোনের কোতোয়ালি জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহসীন উদ্দীন তার বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে লালবাগের আজিমপুর এলাকায় চলমান আন্দোলনের সময় একদল ব্যক্তি দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং গুরুতর আহত হন। পরে তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এই ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১৫ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ মোট ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের আগে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন। সর্বশেষ ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মঙ্গলবার ভোরে তাকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল এ পদে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়েও দায়িত্বে বহাল ছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এখন আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।