আলী খামেনির শেষকৃত্যের সময়সূচি ঘোষণা করল ইরান
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করেছে…
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত যুবক ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে তারাগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এ তথ্য জানান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী গত শুক্রবার (২০ জুন) মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অনুসন্ধান এবং মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির অদূরে ডালিয়া সেচ ক্যানেলসংলগ্ন একটি পাটখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তারাগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জুমার নামাজের পর শিশুটি একা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় অভিযুক্ত মুজাহিদ ইসলাম কৌশলে তাকে পাটখেতের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও দেখানোর কথা বলে শিশুটিকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে।
তিনি জানান, ধর্ষণের পর শিশুটি চিৎকার শুরু করলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্ত তার বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার পর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুশান্ত কুমার রায়ের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সোমবার রাতে উপজেলার ভীমপুর কোরানীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মুজাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয় এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুহত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au